মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৮

মাহাথির মোহাম্মদ কি ক্ষমতায় ফিরে আসছেন?

SONALISOMOY.COM
মে ৮, ২০১৮
news-image

সোনালী সময় ডেস্ক: মাহাথির মোহাম্মদ কি ক্ষমতায় ফিরে আসছেন? মালয়েশিয়ায় কথাটা বেশ উচ্চারিত হচ্ছে। দেশটিতে নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে সম্প্রতি একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, এক মালয়েশিয়ান তরুণী তাঁর দাদার বয়সী একজন রাজনীতিকের দিকে তাকিয়ে আছেন, যাঁর বয়স ৯২। এই রাজনীতিক ২২ বছর ধরে মালয়েশিয়াকে শাসন করেছেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, কান্নাভেজা চোখে মেয়েটিকে মাহাথির বলছেন, ‘আমি বৃদ্ধ, আমার আর বেশি সময় নেই। মালয়েশিয়াকে নতুন করে সাজানোর জন্য আমার আরও কিছু কাজ বাকি আছে; সম্ভবত বিগত শাসনামলে আমি কিছু ভুল করেছি, সেগুলো শোধরাতে হবে।’

মাহাথির মোহাম্মদের রাজনীতিতে ফিরে আসা নির্বাচনকে নতুন গতি দিয়েছে, নয়তো আগস্টের নির্বাচনটি খুব একতরফা হতে যাচ্ছিল। ২০১৫ সালে আনোয়ার ইব্রাহিম আবার জেলে যাওয়ার পর যে বিরোধী জোট ক্ষমতাহীন হয়ে পড়েছিল, মাহাথিরের ফিরে আসার পর সেটি ক্রমে শক্তিশালী হচ্ছে।

মাহাথির যদি নির্বাচনে জেতেন, তিনি হবেন পৃথিবীর অন্যতম বয়স্ক নেতা।

ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড মালায়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পর ২০১৬ সালে মাহাথির বেরসাতু নামে নতুন রাজনৈতিক দল শুরু করেন। পরে তাঁর দল বিরোধী জোট পাকাতান হারপানে যোগ দেয়।

নির্বাচনী রাজনীতিতে মাহাথিরের আবার যোগদানের আগে প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে অপ্রতিদ্বন্দ্বী মনে হচ্ছিল।

মাহাথিরের নির্দেশেই ১৯৯৯ সালে আনোয়ার ইব্রাহিমকে প্রথম জেলে যেতে হয়। ২০০৪ সালে তিনি ছাড়া পান। এবার আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পর ড. মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, ‘সে অল্প বয়সে একটি ভুল করেছে এবং সে জন্য তার যথেষ্ট শাস্তি হয়েছে।’

ভোটারদের অনেকেই বলছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিপক্ষে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা কম। মালয়েশিয়ার গ্রামীণ ভোটাররা মাহাথিরের উন্নয়নের কথা মনে রাখবে, কিন্তু বর্তমান সরকারকেও ক্ষমতাচ্যুত করতে চাইবে না।

এমনকি মাহাথির মোহাম্মদ নিজেও মনে করেন, মালয়েশিয়ানরা ক্ষমতার পরিবর্তনে ভয় পায়।

এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও মাহাথির মোহাম্মদের জোট পাকাতান হারপান যদি ৬১ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা ইউনাইটেড মালায়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় পায়, মাহাথির মোহাম্মদ তাঁর ৯৩তম জন্মদিন উদ্‌যাপন করবেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে।

এর পরের পরিকল্পনা হলো একসময়ে যাঁকে মাহাথির জেলে পুরেছিলেন, দীর্ঘ সময় যাঁর চরম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, সেই আনোয়ার ইব্রাহিমকে ক্ষমা করে নিজের পদে বসানো।

কিন্তু এ বর্ষীয়ান ঝানু রাজনীতিবিদ কি সত্যিই অবসরে যাবেন? সম্ভবত এটা নিয়ে কোনো মালয়েশিয়ানই বাজি ধরতে রাজি হবেন না।