বৃহস্পতিবার, ২৪ মে, ২০১৮

রোজার মাস কবর খুঁড়ে পার করবেন ফিলিস্তিনিরা

SONALISOMOY.COM
মে ১৮, ২০১৮
news-image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : এ বছর এমন সময়ে রোজা শুরু হয়েছে যখন ফিলিস্তিনের মুসলিমরা পার করছেন তাদের জীবনের সব থেকে অস্থির ও ঝুঁকিপূর্ণ সময়। রোজার মাসে যখন বিশ্বের মুসলিমরা সিয়াম সাধনায় সময় পার করবেন, ঠিক তখন স্বজনদের কবর খুড়তে ব্যস্ত সময় পার করবেন ফিলিস্তিনিরা।

গত ডিসেম্বরে জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস খোলার ঘোষণার পরপরই ফিলিস্তিনিদের প্রতিবাদ জোরালো হয়। বিশ্বমতকে উপেক্ষা করেই ইসরায়েলের ৭০তম জন্মদিবসে গত ১৪ মে সোমবার জেরুজালেমের মার্কিন কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে এই দূতাবাসের উদ্বোধন করা হয়। এখন পর্যন্ত এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৩ শতাধিক মানুষ।

শুধু গত সপ্তাহেই নিহত হয়েছেন ৬০ জন এবং ২ হাজার ৭ শ ৭০জন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ঘটনাকে ২০১৪ সালের পর সবথেকে রক্তক্ষয়ী দিন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এগুলো সবই অফিসিয়াল হিসাব, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে প্রকৃত সংখ্যা এর থেকেও বেশি।

প্রতিবাদ এখনও চলছে। ইসরায়েলের অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমার আঘাতে প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য ফিলিস্তিন নাগরিক। দিন যতো যাচ্ছে, ততোই মারমুখি আচরণ করছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী।ইসরায়েলের ভারি বুলেট-বোমার বিপক্ষে গুলতির মাধ্যমে পাথর ছুড়ে এবং টায়ার জ্বালিয়ে ধোঁয়ার সৃষ্টি করে প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন তারা।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, হাসপাতাল ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা নেওয়া আহত ২ হাজার ৭ শ ৭০জনের মধ্যে অধিকাংশের অবস্থা গুরুতর। এদের মধ্যে অনেকেই কয়েক দিনের মধ্যে মারা যেতে পারেন।

এরই মধ্যে শুরু হয়েছে রোজা। তাই রোজার মধ্যেও প্রতিবাদ অব্যাহত রাখতে দ্বিগুণ বেগ পেতে হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের। মৃতদেহের সৎকার করতে সময় যাচ্ছে তাদের। বাকি সময় অতিবাহিত হচ্ছে হাসপাতালে কাতরানো আহতদের চিকিৎসা করে।

মধ্যপ্রাচ্যে রমজান শুরু হওয়ার কথা ছিলো মঙ্গলবার (১৫ মে) সন্ধ্যায়। সেদিন ছিল ‘আল-নাকবা দিবস’ বা “বিপর্যয়ের দিন’। ১৯৪৮ সালের এই দিন থেকেই ফিলিস্তিনিরা তাদের বাড়িঘর হারিয়ে উদ্বাস্তু হতে শুরু করে। এই দিনটি আল-নাকবা দিবস হিসেবে পালিত হয়। আরবি শব্দ নাকবা শব্দের অর্থ বিপর্যয়।

এর একদিন আগে ১৪ মে নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলো ইসরায়েল। তখন এই এলাকা ছিল যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে। ম্যান্ডেট প্যালেস্টাইন নামে তখন সেখানে এক বিশেষ ব্যবস্থা চালু ছিলো। সেটি যখন প্রায় শেষ হওয়ার পথে, ঠিক তখনই ইসরায়েলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

এ জাতীয় আরও খবর