সোমবার, ১৮ জুন, ২০১৮

দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভূক্তি করার প্রস্তাব, সংসদে এনামুল হক এমপি

SONALISOMOY.COM
জুন ১২, ২০১৮
news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

২০১৮-১৯ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন করা হলে দেশের দারিদ্র বিমোচন সহ বিশ্ব দরবারে মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারবে। প্রস্তাবিত এই বাজেট বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে প্রণয়ন করা হচ্ছে উল্লেখ করে রাজশাহী-৪(বাগমারা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেছেন, গত ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার যে সকল প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল তা বাস্তবায়নে অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত বাজেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অর্থমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে সেই বাজেট ঘোষণা করবেন। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বাজেটের মাধ্যমে জাতির জনকের সকল স্বপ্ন পূরণ হবে বলে মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক তাঁর বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেছেন।

মাননীয় সংসদ সদস্য তাঁকে একাধিকবার মনোয়নয়ন দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে এবং তাঁকে নির্বাচিত করায় এলাকার ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন।

এনামুল হক প্রস্তাবিত এই বাজেটকে দেশের মানুষের চাওয়া-পাওয়া পূরণের বাজেট উল্লেখ করে বলেছেন, ২০০৮ সাল থেকে ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ যে ইশতেহার দিয়েছিল তা পূরণের লক্ষ্যে যথাযথ কাজ করে চলেছেন। তার প্রতিচ্ছবি রয়েছে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বাজেটে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এরই মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে এবং ২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশ বিশ্বের উন্নত দেশে পরিণত হবে।

জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতার শুরুতেই সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। বক্তব্যে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও বাগমারাবাসীকেও ধন্যবাদ জানান ।

তিনি অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্ব নেওয়ার পর এদেশের উন্নয়নের জন্য আওয়ামী লীগ সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা যুগোপযোগী। বর্তমান সরকারের নয় বছরে যে বাজেট বাস্তবায়ন করা হয়েছে তাতে দেশের বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, প্রযুক্তি খাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। এর ফলে মাথাপিচু আয় বেড়েছে, রপ্তানি আয় বেড়েছে, বেড়েছে বৈদেশিক বাণিজ্যের হারও। সেই সাথে কমেছে দারিদ্রের হার।

রুপকল্প ৪১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বড় বড় প্রকল্পে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। সাংসদ এ বাজেট কে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাস্তবায়ন ও উন্নয়ন মুখী বাজেট আখ্যায়িত করে বলেছেন শিক্ষা, যোগাযোগ, প্রযুক্তি, সামাজিক উন্নয়ন, কৃষি সহ বিভিন্ন খাতে বেশি বরাদ্দ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন করা হলে দারিদ্র বিমোচন এবং বাংলাদেশের মানুষ মাথা উচু করে বিশ্ব দরবারে দাঁড়াতে পারবে।

আগামীর বাগমারা হবে দেশের উন্নত মডেল উপজেলা
সাংসদ এনামুল হক তাঁর নির্বাচনী এলাকা বাগমারার কৃষিক্ষেত্রের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেছেন, এখানে উল্লেখযোগ্য পরিমান সবজি উৎপাদন হয়। এখান থেকে তাজা মাছ রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাঠানো হয়। এজন্য বাগমারায় একটি কৃষি মার্কেট স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সাংসদ এনামুল হক তাঁর নির্বাচনী এলাকার আইন শৃংখলা বর্তমান পরিস্থিতি তোলে ধরে বলেছেন, বাগমারা এক সময় জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের এলাকা হিসেবে পরিচিতি লাভ করলেও ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জঙ্গি ও সন্ত্রাসমুক্ত আধুনিক বাগমারায় রূপান্তর হয়েছে। বিগত জোট সরকার এলাকায় বাংলা ভাই বাহিনী দিয়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। রক্তাক্ত জনপদে পরিণত করেছিল। জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর এখন শান্তির বাগমারায় পরিণত হয়েছে।

সাংসদ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাগমারার আট বছরের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেছেন, এ সময়ে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভূক্ত করা ছাড়াও বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন নির্মাণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এ সময়ে দুটি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে এবং ৩টি কলেজকে ডিগ্রী কলেজে রূপান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি বাগমারা সহ দেশের সকল নন এমপিওভূক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোকে দ্রুত এমপিওভূক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া বাগমারায় শিক্ষার মান উন্নয়নে একটি টিচার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নির্মান কাজ দ্রুত বাস্তাবায়নেরও দাবি জানিয়েছেন।

এনামুল হক বাজেট বক্তৃতায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেছেন, এ সময়ে বাগমারায় ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা উপজেলা সদরের সাথে পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, বাগমারার সঙ্গে জেলা শহরের সহজে যোগাযোগের জন্য ভবানীগঞ্জ-তাহেরপুর হয়ে নাটোর ও নওগাঁর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য আন্তঃউপজেলা সড়ক নির্মাণ করা জরুরী। এজন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক নিজ এলাকার ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রের চিত্র তুলে ধরে বলেন, এই তথ্যসেবাকেন্দ্রের মাধ্যমে তাঁর নির্বাচনী এলাকার লোকজন বিভিন্নভাবে উপকৃত হচ্ছে। পরীক্ষার ফলাফল, কৃষি সমস্যাসহ বিভিন্ন ভাবে তথ্যকেন্দ্র থেকে উপকৃত হচ্ছে। তিনি এসব তথ্যকেন্দ্রগুলোকে যুগোপযোগি করার জন্য বরাদ্দ বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন সংসদে। তিনি বলেছেন, বাগমারা উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটি ছাড়া অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের কাজ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মানে বাদি জানিয়েছেন।

তিনি স্বাস্থ্য খাতের চিত্র তুলে ধরে বলেছেন, এ সরকারের সময়ে ৩১ শয্যার উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। ৩৮টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। কমিউিনিটি ক্লিনিকগুলো গ্রামীণ মানুষদের চিকিৎসা সেবায় বিরাট ভূমিকা রেখে চলেছে।

সাংসদ বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন বিষয়ে বলেছেন, নির্বাচনী এলাকায় বিদ্যুৎখাতের অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। ৫ মেগাওয়াট থেকে ৩০ মেগাওয়াটে উন্নীত করে এই অঞ্চলের ৮৫ শতাংশ লোকজনের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। বাগমারার প্রতিটি গ্রামে এখন বিদ্যুতের আলো প্রজ্জ্বলিত হচ্ছে। উপজেলায় একটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, একটি পার্ক, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি রক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু স্মৃতিযাদুঘর কমপ্লেক্স ও একটি ফায়ার ষ্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে।

দেশের চৌদ্দটি উপজেলাকে মডেল উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে বর্তমান সরকার। এই চৌদ্দটি উপজেলার মধ্যে আমার নির্বাচনী এলাকা বাগমারাও রয়েছে। আগামী ৪১ সালের মধ্যে দেশের চৌদ্দটি উপজেলা মডেল উপজেলায় পরিনত হবে। বাগমারা মডেল উপজেলায় পরিনত হলে এর সকল উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। তখন বাগমারাও হবে দেশের উন্নত ও মডেল উপজেলা।

সাংসদ আরো বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন আর স্বপ্নে থাকবেনা। তা বাস্তবায়নে রুপ দিতে চলেছে। এর একটি হলো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১, পদ্মাসেতু সহ গ্রামীণ জনপদের নানা উন্নয়ন।
এনামুল হক প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় এলাকার উন্নয়নের জন্য আরও বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি হযরত শাহমখমুদ বিমান বন্দরকে আর্ন্তজাতিক মানের বিমান বন্দরে উন্নীত এবং কার্গোসার্ভিস চালুর দাবি জানান। এর ফলে এই অঞ্চলের বিভিন্ন পণ্য দেশের বাইরে রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

তিনি রাজশাহীতে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও তিনি বলেছেন, বিগত অর্থ বছরের বাজেট বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু সেতুতে একটি স্বতন্ত্র রেলসেতু নির্মাণেরও দাবি জানানো হয়েছিল। এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করায় তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এটা বাস্তবায়ন হলে উত্তাঞ্চলের লোকজনের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে।

তিনি রাজশাহীতে ইপিজেড স্থাপনেরও দাবি জানান। রাজশাহীতে চলমান বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক দ্রুত চালুকরা হলে উত্তর জনপদের ব্যাপক লোকজনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে বেকার জনগোষ্ঠীর বেকারত্ব দূর করা সম্ভব হবে। তিনি আরো বলেছেন, রাজশাহীতে পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই সবগুলো শিল্প-কলকারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এছাড়াও এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের লক্ষ্যে সে সকল খাতে প্রর্যাপ্ত বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন।

এ জাতীয় আরও খবর