সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮

আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, এলাকায় ক্ষোভ

SONALISOMOY.COM
জুন ২৬, ২০১৮
news-image

শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও চামটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব গাজী সুলতান আহমেদকে মিথ্যা মামলায় আসামী করায় ক্ষোভে ফোঁসছেন এলাকার লোকজন। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তারা অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুন স্মাটকার্ড বিতরণ নিয়ে স্থানীয় শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গুলমাইজ গ্রামের তাওহীদ ফকির ও সাব্বির মাঝী ও তাদের বন্ধুদের মধ্যে মারামারি হয়। এতে তাওহীদ আহত হন। ওই ঘটনায় গত ১৩ জুন তাওহীদের বড় ভাই মুকসু ফকির বাদী হয়ে সুলতান গাজী, সাব্বির মাঝী, তার বড় ভাই মনির মাঝী ও তাদের বাবা মোখলেস মাঝীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলা নম্বর-১৬।

মামলার এজাহারে বাদি দাবি করেন, ‌’আসামীরা এলাকায় মাদক সেবন করে বেড়ায়। লোকজনকে মাদক নেশার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এর প্রতিবাদ করায় তাওহীদের উপর হামলা হয়।’

অবশ্য স্থানীয় লোকজন বলছেন, মামলার ১ নম্বর আসামী গাজী সুলতান আহমেদ এলাকায় দানবীর ও শিক্ষানুরাগী হিসেবে পরিচিত। তিনি ২০০৪ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। ওই সময় স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পড়া ও বিনামূল্যে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন।

ঢাকায় বসবাসকারী ধনাঢ্য এই ব্যবসায়ী বিভিন্ন মসিজদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে নিয়মিত অনুদান দিচ্ছেন। এরপর তাকে মিথ্যা মামলায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আসামি করা হয়েছে। বাদি এলাকায় চিহ্নিত মাদকসেবী ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

নাম প্রকাশ না করে গুলমাইজ ও দিনারা গ্রামের একাধিক লোকজন জানান, আলহাজ্ব গাজী সুলতান আহমেদ ঢাকাতে থাকেন। ঘটনার দিন তিনি ঢাকাতেই ছিলেন। মারামারিতে অংশ নেওয়া সাব্বির মাঝী তার ভাগ্নে। এজন্যই তাকে হয়রানি করতে আসামি করা হয়েছে। শহীদ স্মৃতি স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক জানান, সুলতান গাজী ধূমপানও করেন না। অথচ মামলার এজাহারে তাকে মাদকসেবী দাবি করা হয়েছে। যা আপত্তিকর। একজন সম্মানিত ব্যক্তির সম্মান নষ্ট করতেই এটা করা হয়েছে।

শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক আলী আজম মৃধা বলেন, সমাজ সচেতন, শিক্ষা অনুরাগী, আমার জানা ভালো লোকদের মধ্যে একজন আলহাজ গাজী সুলতান আহমেদ। তার সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য চক্রান্ত করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট মামলা করা হয়েছে। যারা এটা করেছেন নিঃসন্দেহে তারা মারাত্মক ভুল করেছেন।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত মামলার বাদী নিজে এলাকার চিহ্নিত মাদকসেবী। মারামারিতে আহত তার ভাই তাওহীদও গুলমাইজ গ্রামের চিহ্নিত গাঁজাসেবী। নিজেদের দোষ ঢাকতেই মিথ্যা এজাহার দিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চামটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ভোজেশ্বর উপসী কলেজের উপাধ্যক্ষ শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, গাজী সুলতান আহমেদ এলাকার সজ্জন মানুষ। তার মতো আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মামুন গাজী বলেন, গাজী সুলতান আহমেদের মতো একজন সজ্জন, সমাজসেবী ও রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে দায়ের মিথ্যা মামলা দ্রুত প্রত্যাহার চায় যুবলীগ। তা না হলে বিএনপি সমর্থক মকসু ফকিরদের রাজনৈতিকভাবে প্র্রতিহত করা হবে।
ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদ হাসান বাবু বলেন, অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। তা না হলে ছাত্রলীগ মাঠে নেমে এ ষড়যন্ত্রের জবাব দেবে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা গাজী সুলতান আহমেদ বলেন, তিনি ঢাকায় ব্যবসা করেন। রাজনীতির পাশাপাশি সাধ্যমতো এলাকার, সমাজের উন্নয়নে কাজ করেন। তার ভাগ্নের সঙ্গে বাদীর ভাইয়ের মারামারি হয়েছে। এটা শুনে তিনি তা সামাজিকভাবে সমাধানের প্রস্তাব দেন। বাদি পক্ষ তাতে রাজি না হয়ে উল্টো তাকেও মিথ্যা মামলার আসামি করে। মিথ্যা এজাহার দেখে তিনি বিব্রত হয়েছেন। পরে খোঁজ নিয়ে দেখেছেন, মামলার বাদী এবং তার পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

সুলতান আহমেদ বলেন, তিনি আইনমান্য করা নাগরিক। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ২৬ জুন শরীয়তপুর আদালতে হাজির হন। বিজ্ঞ আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেছেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, মামলার বাদি মুকসু ফকির ও তার পরিবার বিএনপির রাজনীতি করলেও আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ তাদের শেল্টার দিচ্ছে। একই ঘটনায় অপর একটি মামলায় জামাত নেতাকে সাক্ষী করা হয়েছে। এতেই বুঝা যায়-মামলাগুলো ষড়যন্ত্রমূলক।