বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

বাগমারায় মাদক রেখে শিক্ষককে ফাঁসানোর মামলা নিয়ে রহস্য

SONALISOMOY.COM
আগস্ট ১৪, ২০১৮
news-image

বাগমারা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারার কোন্দা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জাহিরুল ইসলাম বুলুর বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য আইনে দায়ের করা মামলা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন মাদকসেবী এবং ব্যবসায়ীরা শিক্ষককে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং অবৈধ সুবিধা নেওয়ার জন্য বাড়িতে মাদক রেখে ফাঁসিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষকের পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন। শিক্ষকের পরিবারের সদস্য ও এলাকার লোকজনেরা জানান, মচমইল এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী পলাশ মীর ও মাধাইমুড়ি গ্রামের আশরাফুল আলী এসকেন শিক্ষক বুলুর বাড়িতে মাদক রেখে ফাঁসিয়েছেন। গত ৮ আগস্ট এই দুই মাদক ব্যবসায়ী শিক্ষকের বাড়িতে মাদক রেখে পুলিশকে খবর দিয়েছেন। তারা নিজেদের টাকায় ২০ বোতল ফেন্সিডিল কিনে ওইদিন শিক্ষক বুুলুর খাটের নিচের রেখে তা উদ্ধার করে নিয়েছেন। তবে বুলু বাড়িতে না থাকায় তিনি রক্ষা পেয়েছেন।

শিক্ষক বুলুর বাবা মেছের আলী জানান, পুলিশ তার ছেলের ঘর থেকে মাদক উদ্ধারের পর পুলিশের সোর্স হিসাবে পরিচিত দুই মাদক ব্যবসায়ী এসকেন ও পলাশ তাঁর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। পুলিশকে এই টাকা দিলে তাঁর ছেলের কোনো ক্ষতি বা মামলা হবে না বলে জানিয়ে দরকষাকষি করে ৬৫ হাজার টাকা নেন তাঁরা। পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয় কোন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে বুলুর সঙ্গে স্থানীয় একটি পক্ষের বিরোধ চলে আসছিল। এর মধ্যে মাদক ব্যবসায়ী পলাশের একজন আত্মীয়ও রয়েছেন। এছাড়াও তিনি শিক্ষক ও পরিচিতজন হিসাবে এসকেন এবং পলাশকে মাদক ব্যবসা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করে আসছিলেন।

এলাকার যুব সমাজকে রক্ষার জন্য তিনি তাদের মাদক ব্যবসা ছাড়ার অনুরোধ করেন। এতেও তারা ক্ষুব্ধ ছিল। এর প্রতিশোধ হিসাবে এবং মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য মাদক দিয়ে শিক্ষক জাহিরুল ইসলাম বুলুকে ফাঁসানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এসকেন ও পলাশ এলাকায় প্রভাবশালী হিসাবে পরিচিত। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়ানোর কারণে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এছাড়াও পলাশের ভাই ক্ষমতাসীন দলের নেতা এবং আত্মীয় স্বজনেরাও ক্ষমতাবান হওয়ার কারণে এলাকায় বেপরোয়ভাবে চলাফেরা করেন এবং মাদক বিক্রি করেন। তার এক আত্মীয় কয়েকবার পুলিশের হাতে মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি এলাকায় লোকজনকে বিপদে ফেলে বিভিন্নভাবে ফায়দা হাসিল করে থাকেন। এজন্য তারা বুলুকেও ফাঁসিয়েছেন বলে এলাকার লোকজন জানান। এলাকার লোকজনের ভাষ্য মাদক ব্যবসায়ীরা নিজেদের রক্ষার জন্য এবং ফায়দা হাসিলের জন্য শিক্ষকের বাড়িতে মাদক রেখে ফাঁসিয়েছেন। তারা এই মামলা ও ঘটনাকে সাজানো বলে উল্লেখ করেছেন। এজন্য সঠিক তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

এদিকে ওই দিনে অভিযান পরিচালনাকারী বাগমারা থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল মজিদ এবং নজরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেছেন ওই সময় পলাশ মীর এবং আশরাফ আলী এসকেন স্কুল শিক্ষক জাহিরুল ইসলাম বুলুর বাড়ির বৈঠকখানায় অবস্থান করতে দেখতে পায়। সে সময় তাদেরকে সাথে নিয়ে বুলুর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বৈঠকখানার খাটের নিচ হতে পলাশ ও এসকেন মিলে ২০ বোতল ফেন্সিডিল বের করে দেয়। তবে বুলু বা তার পরিবারের কেউ ওই সময় উপস্থিত ছিলেন না। এ ব্যাপারে উক্ত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আতাউর রহমান বলেছেন, যেহেতু মামলাটি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে সবকিছু বলা সম্ভব হচ্ছেনা।