মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: নিশ্চিন্তে এনামুল, বিএনপিতে গফুরের আভাস

SONALISOMOY.COM
আগস্ট ১৯, ২০১৮
news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৃতীয় বারের মতো আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এমপি। তাঁর এই মনোনয়ন ঠেকাতে আরামের ঘুম হারাম করে দলীয় নেতাকর্মীদের বিপথে নেওয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া নেতারা। নিজেদের সকল কু-কর্ম ঢাকতে অন্যের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। দলীয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপরাধে এরই মধ্যে তারা দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। অব্যাহতির পর তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

এক সময়ের সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে খ্যাত রাজশাহীর বাগমারা বর্তমান সরকারের সময়ে সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের দুরদর্শীতায় শান্তির জনপদে পরিনত হয়েছে। জেলার সবচেয়ে বড় এই উপজেলা নিয়ে রাজশাহী-৪ আসন গঠিত। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে এই জনপদটি রক্তাক্ত জন পদে পরিনত হয়েছিল। ২০০৮ সালে ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বর্তমান সরকারের উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডে সেই অবস্থান থেকে এখন শান্তির জনপদে পরিনত হয়েছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন উন্নয়ন আগের যে কোন সময়ের চেয়ে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। রাজশাহীর অন্য সব উপজেলা থেকে বাগমারাকে পিছিয়ে রাখার আর সুযোগ নেই। সম্প্রতি দেশের চৌদ্দটি উপজেলাকে মডেল উপজেলা তৈরির লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। এই চৌদ্দটি উপজেলার মধ্যে বাগমারা অন্যতম।
রাজশাহীর সবচেয়ে বড় উপজেলা বাগমারা। ৩৬৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই আসনে রয়েছে দুইটি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন।

বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, তৃণমূল নেতাকর্মী থেকে শুরু করে উপজেলার আপমর জনগণের নিকটে যোগ্যপ্রার্থী । এলাকার সার্বিক উন্নয়নের ফলে সকল শ্রেনী-পেশার ভোটাদের কাছে তাঁর জনপ্রিয়তার কোন জুড়ি নেই। এ আসনে আগামী নির্বাচনে তিনিই মনোনয়ন পাবেন বলে দলীয় হাইকমান্ড সূত্রে জানাগেছে।

এছাড়া কেন্দ্রীয় নিদের্শনা অনুযায়ী উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি তৈরির কাজ সম্পন্ন করে ফেলেছেন তিনি। বাগমারায় বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যে উন্নয়ন কর্মকান্ড সংঘটিত হয়েছে তা দৃশ্যমান এবং প্রশংসিত।

এ আসনে ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এমপি ছিলেন বিএনপি নেতা সাবেক সংসদ সদস্য আবু হেনা। তত্ত্বাবধক সরকারের আমলে জঙ্গিবাদ নিয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগে বিএনপি থেকে বহিস্কার হন এই সাবেক সাংসদ।

এছাড়া অধ্যাপক আব্দুল গফুরকে এক সময় বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম জিয়া নিজে তাকে ক্যাডেট কলেজের চাকুরী থেকে অবসর দিয়ে দলে ভিড়ে নিয়ে মনোনয়ন প্রদান করেন। সেসময় সংসদ নির্বাচনে অধ্যাপক আব্দুল গফুর নির্বাচিত হন। এছাড়া ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আ’লীগ প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক ১০৭৭৪১ ভোট ও বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল গফুর ৮৩৬৩৩ ভোট পান। এতে ২৪ হাজার ১১৮ ভোট কম পেয়ে পরাজিত হন সাবেক এ সংসদ সদস্য। এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়নের গ্রহণ যোগ্যতায় অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন অধ্যাপক আব্দুল গফুর এমনটি দাবি করেছেন তিনি।

২০০৮ সালে বাগমারা আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। তিনি সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল গফুরকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন। আবারো ২০১৪ সালে দ্বিতীয়বারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাটসহ সকল ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। এলাকার উন্নয়ন ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তৃতীয় বারের মতো তাঁর মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত বলে জানাগেছে।

তবে মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়া নিয়ে তিনি ভাবছেন না বলে জানিয়েছেন সাংসদ এনামুল হক। তিনি বলেন, নিজের মনোনয়ন নিয়ে কখনোই ভাবিনা। দেশের চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামীতে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করে শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আনতে হবে। এ লক্ষ্যে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নিঃস্বার্থভাবে বাগমারার আপামর জনগণের কল্যাণে সকল প্রকার কাজ করে যাচ্ছি। সরকারি সহযোগিতা ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা দিয়েছি। এলাকার উন্নয়ন করেছি। ফলে আমার উন্নয়নের কথা একবার মনে করলে জনগণের অন্য কিছু ভাবার আর সুযোগ নেই।