বুধবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৮

বাগমারায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা!

SONALISOMOY.COM
সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮
news-image

বাগমারা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিবাদমান জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভাড়াটে লোকজন নিয়ে আধা ঘন্টার মধ্যে গোয়ালঘর, রান্নাঘর ভেঙে ফেলা ও গাছপালা কাটা হয়েছে। পরিবারটিকে বিভিন্ন ভাবে হুমকী প্রদান করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় প্রেসক্লাবে এসে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পক্ষে অভিযোগ করা হয়।

উপজেলার হামিরকুৎসা ইউনিয়নের দক্ষিণ মাঝগ্রামের সালেমা বেগম নামের এক গৃহবধূ অভিযোগ করে বলেন, গত রোববার সকালে তাঁর বাড়িতে কোনো পুরুষ লোকজন না থাকার সুযোগে একই গ্রামের সফিকুল ইসলাম, হাফিজুল ইসলামসহ ১০-১২জন লোকজন তাঁর বাড়িতে হাসুয়া, কোদাল, শাবলসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রসহকারে প্রবেশ করেন। তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে গোয়ালঘর, রান্নাঘর ভাঙচুর করেন এবং কয়েকটি আমগাছ কেটে ফেলেন। তিনি কয়েক দফা বাঁধা দিতে আসলেও পারেননি। আধা ঘন্টার মধ্যে তাঁরা তান্ডব চালিয়ে চলে যান।

স্থানীয় একজন শিশু মুঠোফোনের মাধ্যমে ভাঙচুরের পুরো দৃশ্য ভিডিও ধারণ করেন। গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের সামনে ভিডিওটি দেখানো হয়। এতে ইটের তৈরি রান্নাঘর, গোয়ালঘরের ভাঙচুর ছাড়াও সালেমা বেগমকে ভয়ভীতি দেখানোর দৃশ্য দেখা যায়।

গৃহবধূ সালেমার দেবর ফজুলর রহমান বলেন, বাড়িঘরসহ ২৪ শতক জমি নিয়ে প্রতিবেশি সফিকুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। জমিটি তাঁর নানীর দাবি করে তিনি দখলের চেষ্টা করেন। এ নিয়ে আদালতে মামলাও করা হয়। গত ১২ আগস্ট আদালত জমিটির ওপর ১৪৪ ধারা (নিষেধাজ্ঞা) জারি করেন। থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৌরভ কুমার চন্দ্র আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিবাদমান জমিটি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিনিয়ত হুমকী প্রদান করায় তিনি পরিবার নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

তবে অভিযুক্ত সফিকুল ইসলাম অভিযোগ আংশিক অস্বীকার করে বলেন, জমিটি তাঁর নানী সখিনা বেওয়ার নামে রের্কড রয়েছে। তাঁর অংশীদার হওয়ার কারণে ফজলুর রহমানকে জমিটির দখল ছেড়ে দেওয়া জন্য বলা হয়েছে। নিজেদের জমি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে স্বীকার করেছেন।

বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ বলেন, বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। এখনো মামলা হয়নি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।