শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

বাগমারায় আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

SONALISOMOY.COM
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৮
news-image

বাগমারা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইউপি সদস্য আবদুল মানিক প্রামাণিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মামলায় জড়ানোর ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকার লোকজন বৃহস্পতিবার বাগমারা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন। এর আগে নির্যাতিত লোকজন বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ভূক্তভোগিরা নিজেদের নিরাপত্তা ও আওয়ামী লীগের নেতার বিচার দাবি করেছেন। তবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

দুপুরে প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মানিক প্রামাণিক ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বেপরোয়া হয়ে উঠেন। নিষিদ্ধঘোষিত চরমপন্থী দলের সদস্য ও ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়ার কারণে লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছেন। চাঁদা দেওয়া না হলে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোর হুমকী দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে মামলায় আসামি করে কিংবা ওইসব মামলায় সাক্ষি হয়ে ফাঁসিয়েছেন। ঝিকড়া ইউপি পরিষদের সাধারণ সদস্য সাইদুর রহমান, আহম্মদ আলী ও ঝিকড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহদপ্তর সম্পাদক মকছেদ আলী অভিযোগ করেন, মানিক তাঁদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা চেয়ে না পেয়ে একটি বিস্ফোরক মামলার আসামি করতে পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন। তিনি (মানিক) ওই মামলার অন্যতম সাক্ষি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জোয়ানভাগপাড়ার রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, একটি ধর্ষণ মামলার আসামি করার ভয় দেখিয়ে গত ৩ মার্চ তাঁর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেছেন। ওই এলাকার বাসিন্দা মিঠুন ও আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করেন, মামলার ভয় দেখিয়ে তাঁদের কাছ থেকে দুই দফায় ১৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এলাকার নিরিহ, বিত্তবান লোকজনদের টার্গেট করে তাঁদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে থাকেন। স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে ভালো সর্ম্পক থাকা এবং তাঁর বাড়িতে ঝিকড়া পুলিশ ক্যাম্প থাকার কারণে প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজি করেন।

সম্মেলনে উপস্থিত ভবানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে তাঁর একটি জলাশয় দখল করে নিয়েছেন। জলাশয় উদ্ধারে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি।

এসব বিষয়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মানিক প্রামাণিক তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোনো চাঁদাবাজি করা হয়নি, অভিযোগকারীরা সামাজিকভাবে অপরাধ করেছিলেন, এজন্য তাঁদের কাছ থেকে জরিমানা হিসাবে টাকা আদায় করা হয়েছে। কাউকে হুমকি বা ভয়ভীতি দেখানো ও পুলিশের প্রভাব খাটানোর অভিযোগও ভিত্তিহীন।

বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ বলেন, ইউপি সদস্য আবদুল মানিকের বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি চরমপন্থী কিনা তা ফাইল না দেখলে বলা সম্ভব হচ্ছে না। মানিকের সঙ্গে পুলিশের ভালো সর্ম্পক থাকার অভিযোগ মিথ্যা বলে জানান। তাঁর বাড়িতে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন প্রসঙ্গে বলেন, মানিকের নবনির্মিত বাড়িটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প হিসাবে ভাড়া নেওয়া হয়েছে। আগের পুলিশ ক্যাম্প অরক্ষিত ও জরার্জিন হওয়ার কারনে স্থান সংকলণ না হওয়ায় পাশের ওই বাড়ি ভাড়া নেয়া হয়েছে। অভিযোগের কারনে অচিরেই তা স্থানান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।