বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৮

শ্রোতাদের সুস্থ ধারার গান উপহার দিতে চান রাহিদুল

SONALISOMOY.COM
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮
news-image

সাকিব আল রোমান : বর্তমান সময়ে ইউটিউবকে বলা হয়ে থাকে জনপ্রিয়তা মাপার মাপকাঠি। কিন্তু সেই মাপকাঠিতে নিজের পরিমাপ খুব একটা পাওয়া যায়না। হারিয়ে যায় অশ্লীলতায় ভরা গানের মিউজিক ভিডিওর ভিওয়ার্সদের দাপটে। তবুও কি থেমে থাকে লড়াকুদের স্বপ্ন? হয়তো তারা রাতারাতি লিফটের সিড়ি দিয়ে ওঠতে পারেন না কিন্তু তারা মেধা ও পরিশ্রমের দ্বারা যদি একটি সিড়িও ওঠে যেতে পারেন তাহলেই কিন্তু জন্মাতে পারে আরো একটি এন্ড্রু কিশোর, কুমার শানুর মত প্রতিভাবান সংগীতশিল্পী। সুস্থ ধারার গান শুনুন এবং তাদের মনের চিলেকোঠায় জায়গা করে দেয়ার দায়িত্বটা আমাদেরই কাঁধে তুলে নিতে হবে। আজ এমনই একজন প্রতিভাবান তরুণ উদীয়মান শিল্পীর সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিবে সোনালী সময়। যিনি ইতিমধ্যে নিজের কণ্ঠ দিয়ে রাঙিয়ে নিচ্ছেন নিজের চারপাশ লক্ষ্য বহদূর যাওয়ার।

আমাদের সংবাদকর্মী সাকিব আল রোমানের সাথে শিল্পী রাহিদুল ইসলামের কথপোকথন হুবহু তুলে ধরছি পাঠকদের জন্য :-

সোনালী সময় : আপনার নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন…
রাহিদুল হাসান : আমার জন্ম শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলায়। আমি সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক (সন্মান) এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রী গ্রহণ করি। এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী গ্রহণ করি। বর্তমানে আমি ঢাকা জেলা জজ আদালতে একজন শিক্ষানবিস আইনজীবী হিসেবে রয়েছি।

সোনালী সময় :  কোন বিষয়গুলোতে আপনি দক্ষ? কেন সঙ্গীতটাকেই মনে ধরেছে?
রাহিদুল হাসান : আসলে দক্ষতা তো অনেক বড় ব্যাপার। আমি এখনো নিজেকে খুব বেশী দক্ষ মনে করি না। ভালো কিছু করার চেষ্টা করছি মাত্র। ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতের প্রতি একটা টান ছিল। মা-বাবা আর চাঁচারা ছিলেন সঙ্গীতমনা। বিশেষ করে আমার মিনহাজ চাঁচা, যার সঙ্গে আমার কৈশরের পুরোটা সময় কেটেছে, তিনি ছিলেন ভীষণ সঙ্গীত প্রিয় মানুষ। বলতে পাড়েন সেখান থাকেই ভালবাসাটা তৈরি। তবে, আমার সঙ্গীত চর্চার পেছনে আমি সবচেয়ে বেশী অবদান দেবো একজন বিশেষ মানুষকে। একবার আমার জন্মদিনে সে আমাকে একটা গিটার উপহার দেয়। মুলত সেখান থেকেই আমার সঙ্গীতের প্রতি ভীষণ ভাবে ঝুঁকে পড়া। তাই পুরো অবদান আমি সেই বিশেষ মানুষটাকেই দিতে চাই।

সোনালী সময় :  আগামীতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
রাহিদুল হাসান : আমি সুস্থ ধারার কিছু গান শ্রোতাদের উপহার দিতে চাই। যা বাংলাদেশের সঙ্গীতকে বিশ্বের দরবারে প্রতিনিধিত্ব করবে। যেমনটা আমরা ৮০-৯০ এর দশকে দেখেছি।

সোনালী সময় :  ইউটিউবে নিজেকে তুলে ধরার উৎসাহের নেপথ্যে কারা?
রাহিদুল হাসান : দেখুন ইউটিউব হচ্ছে কোন প্রতিভাকে সকলের মাঝে পৌঁছে দেয়ার একটা চমৎকার মাধ্যম। আমার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু, যাকে আমি কুটনা বুড়ী বলে ডাকি, তিনি আমাকে সর্বদা উৎসাহ জুগিয়েছেন। তাছাড়া নাজমুল ভাই, রিয়াজ, ছোটন, আতিফ, উৎস, শেরন এদের প্রচুর অবদান রয়েছে।

সোনালী সময় :  কেমন গান করতে মন বেশী আগ্রহ দেখায়?
রাহিদুল হাসান : আমি মূলত ব্যান্ড সঙ্গীত করতে বেশী পছন্দ করি। যেমনটা ৮০-৯০ এর দশকে ছিল।

সোনালী সময় : কভার সং করার পর কেমনবোধ করেন? (ধরুন, আপনার পরিচিত একজন বলছে আরে এই গানটির শিল্পীতো অমুক!)
রাহিদুল হাসান : নিশ্চই ভালো লাগে। যখন শুনি শ্রোতারা প্রশংসা করছেন। এটা অমুক শিল্পীর গান। চমৎকার গেয়েছেন, ঠিক ঐ শিল্পীর মতো ইত্যাদি ইত্যাদি। তখন খুব ভালো লাগে।

সোনালী সময় : বর্তমান সঙ্গীতে সেই সুর আর নেই যা ৮০ বা ৯০’র দশকে ছিল। কোন গান প্রকাশ পেলে তা মানুষের মুখে মুখে থাকতো। এখন সাধারণত তেমন হয়না। এর থেকে উত্তরনের উপায় কি হতে পারে?
রাহিদুল হাসান : এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন। ৮০-৯০ এর দশকের গানগুলির চাহিদা কিন্তু এখনো প্রচুর রয়েছে। কিন্তু এখন আর তেমন গান শ্রোতাদের উপহার দেয়া হচ্ছে না। এটা খুব দুঃখজনক। একমাত্র সুস্থ ধারার চিন্তা আর সে চিন্তার বহিঃপ্রকাশই পারে সেসব স্বর্ণালী দিনগুলো আবার ফিরিয়ে আনতে। সবকিছুতেই কমার্শিয়াল চিন্তা না করে সৃষ্টিশীল চিন্তা বা ধ্যান ধারনার ভিশন প্রয়োজন।

সোনালী সময় : নতুন প্রজন্ম যারা সঙ্গীতাঙ্গনে আসতে আগ্রহী তাদের উদ্দেশে কি টিপস্ দিবেন?
রাহিদুল হাসান : দেখুন আমি নিজেই তো নতুন প্রজন্মের। কেবল মাত্র একপা-দুপা করে সঙ্গীতের ভুবনে হেটে চলেছি। আমি নিজে যা মেনে চলি তাই সবার উদ্দেশ্যে বলছি। তা হল, গান রচনায় শব্দচয়ন খুব জরুরী। পাশাপাশী হৃদয়ে গেথে থাকার মতো সুর। আর তা কেবল সুস্থ এবং মমনশিল চিন্তার মাধ্যমে সম্ভব। তাই সকলে মিলে বাংলাদেশকে বাংলাদেশের সঙ্গিতকে বিশ্বের দরবারে একটা শক্ত ভীত দেবার জন্য কাজ করি।

সোনালী সময় : স্বর্ণালী সন্ধ্যায় কার হাত ধরে হাটতে ইচ্ছে ছিল এবং তাকে কি বলার আছে?
রাহিদুল হাসান : হা হা হা। যার হাত ধরে হাটবার ইচ্ছে ছিল বা এখনো আছে, তাকে শুধু এতটুকুই বলবো, কেবল মাত্র স্বর্ণালী সন্ধ্যায় নয়, আমি সারাটা জীবন তোমার হাত ধরে হাটতে চাই। জান্নাতে আমার সত্তরটা হুর চাই না, শুধু তোমাকে চাই।

সোনালী সময় : আমাদের সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।
রাহিদুল হাসান : আপনাদেরও অনেক অনেক ধন্যবাদ।