রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮

ভাইয়া গ্রুপের পরিচালকের বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ

SONALISOMOY.COM
অক্টোবর ২৩, ২০১৮
news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মজির আহমদের বিরুদ্ধে ৫ম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে দিনভর আটক রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

ধর্ষণের পর চেয়ারম্যান ১০ লক্ষ টাকায় রফাদফা করে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। তাছাড়াও মজির আহমদ প্রভাতী ইন্সুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান, লাকসাম পৌরসভার সাবেক মেয়র, ভাইয়া গ্রুপের পরিচালক, ভাইয়া অটো রাইস মিলের মালিক ও লাকসাম জেনারেল হাসপাতালের চেয়ারম্যান।

হাসপাতালের নার্স, মেয়ের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাথী নামের এক পতিতা সরবরাহকারী গত (১৭ অক্টোবর) বুধবার সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের কনকশ্রী মধ্যমপাড়াস্থ আনন্দ স্কুলের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী পপি (১১/ছদ্মনাম) সাথে কথা বলে। এবং তাকে জামাকাপড় কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাকসাম নশরতপুরস্থ ভাইয়া গ্রুপের রাইস মিলের মালিকের গোপন কক্ষে নিয়ে যায়। বেলা ১১টায় চেয়ারম্যান মজির আহমেদ আসে নিজ কক্ষে।

মজিরের কাছে পপিকে রেখে চলে যায় সাথী। দিনভর অবুঝ পপিকে ধর্ষণ করে লম্পট মজির। একপর্যায়ে নাবালিকা পপি রক্তাক্ত ও অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক লাকসামের একটি বেসরকারি হাসপাতালের একজন নার্সকে ডেকে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। জ্ঞান ফিরলে বিকালে পপিকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বুধবার রাতে পুনরায় পপি’র রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

কনকশ্রী ওয়ার্ড মেম্বার সাইদুল ইসলাম তিতু ও পপি’র স্বজনরা (১৮ অক্টোবর) বৃহস্পতিবার সকালে তাকে লাকসাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করায়। হাসপাতাল কতৃপক্ষ গোপনীয়তা রক্ষা করতে তাকে হাসপাতালের ৬ষ্ঠ তলায় স্টাফদের রোমে গোপনে চিকিৎসা দেয়। কিন্তু লাকসামে কর্মরত সাংবাদিকরা ভিড়তে থাকলে বৃহস্পতিবার বিকালে তাকে ইউপি মেম্বার সাইদুল ইসলাম তিতু’র হেফাজতে কুমিল্লায় প্রেরণ করা হয়। এখন পর্যন্ত পপি ওই মেম্বারের হেফাজতেই আছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

এদিকে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে শুক্রবার সকালে ভাইয়া গ্রুপের মোস্তফা কামাল, পেরুল দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ডালিম, ইউপি মেম্বার সাইদুল তিতু ও পপি’র পরিবারসহ স্বজনরা গোপনীয়ভাবে এক সমঝোতা বৈঠকে বসে। সেখানে পপি’র পরিবারকে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভাইয়া গ্রুপের এক কর্মকর্তা বলেন, মেয়ের পরিবারকে ম্যানেজ করতে মজির সাহেব থেকে নগদ ১০ লক্ষ টাকা নিছে মোস্তফা সাহেব। কিন্তু পেরুলের চেয়ারম্যান সফিক, মেম্বার তিতু ও আওয়ামী লীগ নেতা ডালিমের সাথে কথা বলার পর তিনি সিদ্ধান্ত পরির্বতন করে মেয়ের পরিবারকে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

লাকসামস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত একজন নার্স নাম প্রকাশ না করে বলেন, মেয়েটির গোপনাঙ্গে ৬টি সেলাই করতে হয়েছে। তবে মেয়েটি আশংকামুক্ত। ক্ষোভ ও ঘৃনা প্রকাশ করে ওই নার্স সাংবাদিকদের আরো বলেন, চাকরী রক্ষার্থে চেয়ারম্যানের পছন্দমত মনোরঞ্জনে বাধ্য এ হাসপাতালের নার্স ও আয়ারা। একজন ছাড়া সব নার্সরাই গোপনীয় বাসায় যাওয়া আসা করে। সুন্দরী মেয়েদের মা ডেকেও অনৈতিক সর্ম্পক গড়ে তোলার নজির রয়েছে। পেরুলের নাতনী ও সালেহা আপার কথা লাকসামের সাবাই জানে। এতোকিছুর পরেও তিনি ছোট্ট মেয়েটিকে কিভাবে নষ্ট করলো?

মেয়ের বাবা মনির হোসেন বলেন, আমগো মেম্বার বলেছে কাউকে কিছু না বলতে। আমরা ১০ লক্ষ টাকা চাইছি, কিন্তু তিতু মেম্বার বলেছে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকায় মেনে যেতে। তবে আমার নাবালিকা মেয়ের জীবন যে নষ্ট করেছে তার বিচার পরকালে হলেও হবে।

এএসপি লাকসাম সার্কেল নাজমুল হাসান জানায়, বাদী পক্ষ মূলত ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করতেছে। তারা ভিকটিমকে কোথায় লুকিয়ে রেখেছে, পুলিশ সম্ভাব্য সকল স্থানে ভিকটিমকে উদ্ধার করার জন্য অভিযান চালায়, ওই ইউপির চেয়ারম্যান, মেম্বার, ভিকটিমের পরিবার বিষয়টি নিয়ে মূখ খুলতেছেনা। ভিকটিমকে উদ্ধার করা গেলে বিস্তারিত জানা যাবে, ভিকটিমকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

এবিষয়ে অভিযুক্ত মজির আহমদের মোবাইলে বার বার কল করেও বক্তব্য জানা যায়নি।