রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮

বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন নিয়ে অনুচিন্তন

SONALISOMOY.COM
অক্টোবর ২৮, ২০১৮
news-image

মোঃ ওসমান গনি: মানুষের বেঁচে থাকার জন্য ছয়টি মৌলিক অধিকার রয়েছে। ছয়টি মৌলিক অধিকারের মধ্যে শিক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অধিকার। শিক্ষা শিশুর জন্মগত মৌলিক অধিকার। প্রতিটি শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। বাংলাদেশে ১৯৯০ সালের ৬ ফেব্র“য়ারী বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাশ হয়। ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারী সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা চালু হয়। ইংল্যান্ডে ১৮৯১ সালে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন হয়। ইংল্যান্ডের ১০২ বছর পর বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রচলন হয়। ভারতে ১৯৬৮ সালের শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট অনুসারে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা অবৈতনিক বাধ্যতামূলক এবং সর্বজনীন হয়।

বাংলদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা ১৯৯৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ২৫ বছরে প্রাথমিক শিক্ষার প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীর ভর্তির হার প্রায় শতভাগ, ছাত্র-ছাত্রীর ঝরে পড়ার হার প্রায় শূণ্যের কোটায়, শতভাগ উপবৃত্তি প্রদান, বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন সাধন, দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ প্রদান। গুণগত ও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ২০০৯ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন ধরণের ঢ়ড়ষরপু গ্রহণ করেছে। এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষায় ধারাবাহিক উন্নয়ন হচ্ছে। সরকার প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন ধরণের যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে।

আজকের শিশুদের আগামী দিনের যোগ্য ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলতে হলে এবং বিশ্বের শিশুদের সাথে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে অবশ্যই শিশুদের জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। কারণ প্রাথমিক শিক্ষা শেষে শিশুরা মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ স্তরের শিক্ষা লাভ করে। প্রাথমিক শিক্ষার ভিত মজবুত করতে পারলেই পরবর্তী স্তরের শিক্ষা শিশুদের কাছে সহজ, সাবলীল ও আকর্ষণীয় হবে। কাজেই আমি মনে করি, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত, মানসম্মত ও টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকারকে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তবেই বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে।

বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে ও বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার শিক্ষাক্রমের পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও নতুন নতুন বিষয়বস্তু পাঠ্যক্রমে সংযোজন করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতে উন্নত বিশ্বের শিক্ষার্থীদের মতো জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করতে পারে। বিশেষ করে ইংরেজী, প্রাথমিক গণিত ও প্রাথমিক বিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলোতে খুব শীঘ্রই সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। আমি মনে করি, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান অর্জন করতে হলে মেধাবী, যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ করলে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধি পাবে। প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধির জন্য বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

প্রাথমিক গণিত, ইংরেজী ও প্রাথমিক বিজ্ঞানে যেসব বিষয়বস্তু পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে তা নিঃসন্দেহে যুগোপযোগী। প্রাথমিক গণিত, ইংরেজী ও প্রাথমিক বিজ্ঞানের মতো বিষয় পড়ানোর দক্ষ, যোগ্য শিক্ষকের যথেষ্ট স্বল্পতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে সচিব কমিটিতে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা, এখন থেকে বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ২০% বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। কারণ মানবিক বিভাগ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকেরা প্রাথমিক গণিত ও প্রাথমিক বিজ্ঞানের মতো বিষয় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে পাঠ্যক্রমের বিষয়বস্তু আতœস্থ করাতে পারে না। এর ফলে পাঠ্যক্রমের বিষয়বস্তু শিক্ষার্থীদের কাছে অস্পষ্ট থেকে যাচ্ছে। যা পরবর্তীতে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চস্তরের শিক্ষার্থীদের শিক্ষালাভ করতে বাঁধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধির জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা উচিত। সরকার ২০১৩ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মহিলা শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এস.এস.সি সমমান থেকে এইচ.এস.সি সমমান নির্ধারণ করেছিল। বর্তমানে সরকার প্রাথমিক বিদ্যালযে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পুরুষ ও মহিলা উভয় প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পাশ নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে সচিব কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। গুণগত ও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগের কোন বিকল্প নেই। আমি মনে করি, পুরুষ ও মহিলা শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা অসমতা রেখে কখনো মানসম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। পুরুষ ও মহিলা শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বৈষম্য দূর করে একই শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্থাৎ স্নাতক পাশ শিক্ষক নিয়োগ করতে পারলে প্রাথমিক শিক্ষার মান অবশ্যই বৃদ্ধি পাবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর সিনিয়র সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি বন্ধ ছিল। এবছর সিনিয়র সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি শুরু হয়েছে। বিষয়টি অবশ্যই সিনিয়র সহকারী শিক্ষকদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পদোন্নতি বন্ধ থাকার ফলে প্রাথমিক শিক্ষার একাডেমিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে অনেক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। আমি মনে করি, এখন থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি প্রতি বছর জানুয়ারী থেকে মার্চের মধ্যে হলে প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেক ভালো হবে। বর্তমান সরকার সিনিয়র সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে ৮০% পদোন্নতি আর ২০% পরীক্ষার মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে সচিব কমিটিতে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। সচিব কমিটিতে সিদ্ধান্ত গৃহিত হলে পরবর্তীতে মন্ত্রীপরিষদ সভায় উঠানো হবে এবং মন্ত্রীপরিষদ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। পূর্বে সিনিয়র সহকারী শিক্ষক থেকে ৬৫% প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়া হতো। আমরা সহকারী শিক্ষকেরা দীর্ঘদিন থেকে সরকারের কাছে দাবী জানিয়ে আসছি, সহকারী শিক্ষক থেকে শতভাগ প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দিতে হবে।

বর্তমান সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণির নন-ক্যাডার করায় এখন থেকে প্রধান শিক্ষক পদে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন(ইচঝঈ) নিয়োগ দেবে। প্রধান শিক্ষক পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর এবং বয়স সীমা ২১ থেকে ৩০ বছর করা হবে। পূর্বে প্রধান শিক্ষক পদে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়োগ দিত। প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল স্নাতক এবং বয়স ছিল ২৫ থেকে ৩৫ বছর। আমি মনে করি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের চাকরীর বয়স কমপক্ষে ৭ বছর হয়েছে, তঁদের বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক পদে আবেদন করার সুযোগ দেওয়া উচিত। নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক হওয়ার সুযোগ থাকলে অনেক যোগ্য ও মেধাবী সহকারী শিক্ষকেরা প্রধান শিক্ষক হতে পারবে। এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। উল্লেখ্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত আবেদন করতে পারে।

১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম পে-কমিশন ঘোষণা করেন। জাতীর জনকের দেওয়া প্রথম পে-কমিশনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে বেতন স্কেলের কোন ব্যবধান ছিল না। ০১-০৭-১৯৭৩ সাল থেকে ৩০-০৬-১৯৭৭(জাতীয়করণ হওয়ার পর থেকে) প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল ২২০-৪২০ টাকা এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ২২০-৪২০ টাকা ছিল। ১৩-০৬-২০০৬ সাল থেকে ৩০-০৬-২০০৯(উন্নতি স্কেল) প্রধান শিক্ষক থেকে হঠাৎ করে সহকারী শিক্ষকের বেতন বৈষম্য শুরু হয়। প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল ৩৫০০-৭০০০ টাকা এবং সহকারী শিক্ষকের বেতন স্কেল ৩১০০-৬৩৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। প্রধান শিক্ষক থেকে সহকারী শিক্ষকের বেতন স্কেলের ব্যবধান হয় ৪০০ টাকা। ১৫-১২-২০১৫ সাল হতে প্রধান শিক্ষকের ৩টি টাইম স্কেলসহ বেতন স্কেল ২২০০০ টাকা আর সহকারী সহকারী শিক্ষকের ৩টি টাইম স্কেলসহ বেতন স্কেল ১১৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা প্রধান শিক্ষক থেকে সহকারী শিক্ষকের বেতন স্কেলের ব্যবধানই ১০৭০০ টাকা।

প্রধান শিক্ষকের চাকরী শুরু ১২তম গ্রেডে বেতন স্কেল ১১৩০০ টাকা আর সহকারী শিক্ষকের চাকরী শেষ ১২তম গ্রেডে বেতন স্কেল ১১৩০০ টাকা। অর্থাৎ প্রধান শিক্ষক চাকরীতে যোগদান করেই যে স্কেল পান, একজন সহকারী শিক্ষক ১৬ বছর চাকরী করে সে স্কেল পান। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘‘সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূরীরণের দাবীর বিষয়টি যুক্তিযুক্তভাবে আলোচনা করা হচ্ছে বলে জানান’’ মাননীয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মহোদয়(সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং) কিšু— আজ পর্যন্ত সহকারী শিক্ষকদের বেতন ক্সেলের বৈষম্যের কোন সমাধান করা হয় নি।

আমি মনে করি, প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল নির্ধারণ করা সমীচীন। গত ডিসেম্বর ২০১৭ সালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সহকারী শিক্ষকেরা এই দাবীতে অনশনও শুরু করেছিল। তখন সরকারের উচ্চস্তরের কর্মকর্তাদের আশ্বাসের ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষকেরা সেই অনশন স্থগিতও করেছিল। প্রায় ১০ মাস হয়ে গেল কিšু— দুঃখের বিষয় অদ্যবধি সহকারী শিক্ষদের দাবী সরকার মেনে নেয়নি। প্রায় ৩ লাখ সহকারী শিক্ষকদের আতœমর্যাদার প্রাণের দাবী মেনে নেওয়ার জন্য হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরী মাদার অব হিউম্যানিটি বাংলাদেশের বর্তমান সফলতম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আকুল আবেদন করেছি। কারণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান চালিকা শক্তি হচ্ছে সহকারী শিক্ষকেরা। সহকারী শিক্ষকদের হতাশা ও বৈষম্যের মধ্যে রেখে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন কতটুকু সম্ভব তা আমার বোধগম্য নয়। আর যা হোক হতাশা ও বৈষম্য নিয়ে কর্মসন্তুষ্টি লাভ করা যায় না।

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার মান আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর প্রাথমিক শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য সরকার নানা ধরণের উদ্যোগ, পরিকল্পনা, কৌশল ও নীতি গ্রহণ করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রা(ঝউএ) অর্জন করতে হলে, প্রাথমিক শিক্ষায় শতভাগ সাফল্য অর্জন করতে হবে। ইউনেস্কোর স্বীকৃতি হলো-জিডিপির শতকরা ছয় ভাগ এবং জাতীয় বাজেটের শতকরা বিশ ভাগ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ দিতে হবে। শিক্ষাখাতে বরাদ্দকে বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়। কাজেই প্রাথমিক শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়াতে হবে। বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক গুণগতমান বৃদ্ধি পেলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।

লেখক: মোঃ ওসমান গনি
সহকারী শিক্ষক
মচমইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়
বাগমারা, রাজশাহী।