রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮

বাংলাদেশী মধু ব্র্যান্ডিং নিয়ে দিনব্যাপী বিসিকের কর্মশালা অনুষ্ঠিত

SONALISOMOY.COM
নভেম্বর ২৬, ২০১৮
news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রিজম প্রকল্পের আয়োজনে বাংলাদেশী মধু ব্র্যান্ডিং নিয়ে দিনব্যাপী এক নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের চূড়ান্ত
সোমবার ২৬ নভেম্বর, রাজধানীর এসএমই ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় শিল্প মন্ত্রণালয়, বিএসটিআই, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বন বিভাগ, মধু প্রক্রিয়াজাতকারক-রপ্তানীকারক, বিসিক, এসএমই ফাউন্ডেশন, গবেষক, বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন অধিদপ্তর, মৌচাষী এবং মৌচাষীদের সংগঠনগুলো অংশগ্রহণ করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিসিকের চেয়ারম্যন মুশতাক হাসান মুহঃ ইফতিখার।

এসময় এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, দেশে যে পরিমান মৌচাষী আছে তা দিয়ে মধুর উৎপাদন দ্বিগুন করা সম্ভব। এজন্য মধু উৎপাদনের সাথে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি কার্যকরী ফোরাম তৈরী করে কাজ করতে হবে। এছাড়া মধুর মানের দিকেও নজর দিতে হবে।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, প্রিজম প্রকল্পের সিনিয়র এক্সপার্ট মিস মাতেজা ডামেস্টিয়া, যিনি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রিজম প্রকল্পের আওতায় ৮ মাসের বেশী সময় ধরে বাংলাদেশে মধু ব্র্যান্ডিং নিয়ে কাজ করছেন।

মূল প্রবন্ধে মধুর বৈশ্বিক উৎপাদন-বাজার, বাংলাদেশে মধু চাষ এবং উৎপাদনের চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, চীন বছরে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন মধু উৎপাদন করে। তুরস্কে ১ লাখ মেট্রিক টন, যুক্তরাষ্ট্রে ৮০ হাজার এবং ভারতে ৬০ হাজার মেট্রিক টন মধু উৎপাদিত হয়। উৎপাদনের পাশাপাশি মধু রপ্তানীতেও শীর্ষে আছে চীন। দেশটি প্রতিবছর প্রায় ৩শ ১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধু রপ্তানী করে। এছাড়া, নিউজিল্যান্ড ২শ ২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, জার্মানী ১শ ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, স্পেন ১শ ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, আর্জেন্টিনা ১শ ৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ও ইউক্রেন ১শ ৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধু রপ্তানী করে।

অন্যদিকে সবচাইতে বেশী মধু আমদানি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ দেশটি বছরে প্রায় ৫শ ৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধু আমদানি করে।

এছাড়া, জার্মানী ২শ ৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, স্পেন ১শ ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যুক্তরাজ্য ১শ ৪১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ফ্রান্স ১শ ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধু আমদানি করে। এদিকে বাংলাদেশে আনুমানিক ২৫ হাজার মৌচাষী আছে যা দিয়ে বছরে মাত্র ৩ হাজার টন মধু উৎপাদিত হয়। একারণে চাহিদার প্রায় ৭০ ভাগ মধৃু আমদনি করা হয়। এই মৌচাষী দিয়ে বছরে ২৫ হাজার টন থেকে ১ লাখ টন পর্যন্ত মধু উৎপাদন করা সম্ভব জানিয়ে মাতেজা ডামেস্টিয়া বলেন, মধু উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াজাত করণে দক্ষতা বৃদ্ধি করা গেলে এবং ভালো মানের মধু উৎপাদন করা গেলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পর তা বিদেশে রপ্তানী করা সম্ভব হবে। মৌ চাষীদের এলাকা ও ক্লাস্টার ভিত্তিক ভাবে সংগঠিত করে প্রয়োজনীয় আর্থিক এবং নীতিগত সহায়তা দেবার কথাও সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া, মধু আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিত করাতে আলাদা আলাদা ব্র্যান্ডিং না করে বাংলাদেশী মধু বা মেইড ইন বাংলাদেশ নামে ব্র্যান্ডিং করার পরামর্শ দেয়া হয়। কেস স্টাডি হিসেবে মাতেজা জানান, স্লোভেনিয়া বাংলাদেশ থেকে মধু আমদানি করে তা পরিশোধন করে মেইড ইন স্লোভেনিয়া নামে মধু বাজারজাত করে যা ইউরোপে বেশ জনপ্রিয়। ভারতও বাংলাদেশ থেকে মধু আমদানি করে নতুন মোড়কে তা আবার বাংলাদেশেই রপ্তানী করে।

কর্মশালায় আরো উপস্থিত ছিলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, বিসিকের নকশা ও বিপনন বিভাগ এবং প্রিজম প্রকল্পের পরিচালক মাহবুবুর রহমান, বিসিকের পরিচালক (উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ) জীবন কুমার চৌধুরী, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক মোহাম্মদ শাখওয়াত হোসেন, প্রিজম প্রকল্পের টিম লিডার আলী সাবেত, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের পরিচালক মালা খান, বিসিকের মৌচাষ প্রকল্পের পরিচালক মো. আমিনুজ্জামান।