রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮

বাগমারায় অপহরনের ১৮ ঘন্টা পর অজ্ঞান অবস্থায় স্কুল ছাত্র উদ্ধার

SONALISOMOY.COM
নভেম্বর ২৬, ২০১৮
news-image

বাগমারা প্রতিনিধি: দুই লাখ টাকা মুক্তিপনের দাবীতে বাগমারায় ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রকে অপহরনের ১৮ ঘন্টা পর পুলিশ ওই ছাত্রকে অজ্ঞান ও হাত পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

এ ঘটনায় বাগমারা থানায় একটি অপহরন মামলা প্রক্রিয়াধীন হয়েছে। পুলিশ অপহরণের সাথে জড়িত সাখাওয়াত নামে ৯শ শ্রেণির এক ছাত্রকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাঁঠালবাড়ি গ্রামের সাবেক বিজিবি সদস্য তহিদুল ইসলামের ৬ষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া স্কুল ছাত্র রিয়াদ হোসেন গত রবিবার রাত নয়টার সময় তার কাঁঠালবাড়ি গ্রাম থেকে নিখোঁজ হয়। সারা রাত তার পিতা মাতা ও আত্মীয় স্বজনরা রিয়াদকে অনেক খোঁজাখুজি করে তার সন্ধান লাভে ব্যর্থ হয়। রিয়াদের পিতা মাতা ও গ্রামবাসীরা জানায়, ওই দিন বিকেলে রিয়াদ তার দূর সম্পর্কের আত্মীয় খামারগ্রামের মৃত রহুল আমীনের পুত্র ৯ম শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্র সাখাওয়াতের সাথে ঘুরাঘুরি করতে দেখে। এ নিয়ে রিয়াদের পিতা মাতার সাখাওয়াতের প্রতি সন্দেহ হয়। রিয়াদের মা ফুরতুন বেগমের বাবার বাড়িও খামারগ্রামের একই এলাকায়।

সোমবার সকালে ফুরতুন বেগম তার তার স্বামী তহিদুলকে সাথে নিয়ে খামারগ্রামে সাখাওয়াতের বাড়িতে গিয়ে রিয়াদের খোজ করলে রিয়াদ ও তার পরিবার প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে রিয়াদতে খুজে পাওয়া সম্ভব বলে জানায়।

এ সময় কোন উপায় অন্তর না পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ সাখাওয়াতকে আটক করে তাকে সাথে নিয়ে সম্ভাভ্য বিভিন্ন স্থানে খোজাখুজি শুরু করে।

এ পর্যায়ে সাখাওয়াতের প্রতি পুলিশ চাপ সৃষ্টি করলে সাখাওয়াত জানায় রিয়াদকে তাদের বাড়ির চাতালে রাখা আছে।

পরে পুলিশ সোমাবার বিকেল চার টার দিকে সাখাওয়াতের বাড়ির ঘরের চাতাল থেকে হাত পা ও মুখে কচষ্টেপ লাগানো অজ্ঞান অবস্থায় রিয়াদ কে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

এলাকাবাসী জানায়, ঘটনার মূল হোতা হিসেবে সাখাওয়াত ছাড়াও অন্য কেউ জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের মতে সাখাওয়াত অপ্রাপ্ত বয়স্ক এবং রিয়াদ ও সাখাওয়াত তারা দূর সম্পর্কের আত্মীয় এবং একই সাথে চলাফেরা করত।

রিয়াদ ভবানীগঞ্জের ব্রাইট প্রি ক্যাডেট স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে এবং সাখাওয়াত দেউলিয়া গ্রামের রানী রিভারভিউ স্কুলে ৯ম শ্রেণিতে লিখাপড়া করত। পাশাপাশি স্কুলে লিখাপড়া করলেও তারা দুজনে অধিকাংশ সময় একই সাথে চলাফেরা করত ।

কোন অপহরনকারী চক্র সাখাওয়াতকে ব্যবহার করে অপহরনের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারনা করছেন এলাকার লোকজন।

এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা(ওসি) নাছিম আহম্মেদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাখাওয়াতকে থানায় আনা হয়েছে । সে অপ্রাপ্ত তাই মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।