রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮

বাগমারায় সংঘর্ষে যুবলীগ কর্মী নিহত

SONALISOMOY.COM
ডিসেম্বর ১, ২০১৮
news-image

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুরে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে যুবলীগ নেতা নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সাংসদ ও আওয়ামী মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষে আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতের ঘটনায় মেয়র কালামের সমর্থকেরা তাহেরপুর বাজারে ২টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।

এ ঘটনায় পুলিশ তিনজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। শনিবার দুপুরে তাহেরপুর হরিতলা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানান বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহমেদ।

নিহত যুবলীগ নেতার নাম চঞ্চল চন্দ্র। তিনি তাহেরপুর পৌরসভার হলদারপাড়ার নরেন চন্দ্র পিয়নের ছেলে। চঞ্চল চন্দ্র পৌরসভা যুবলীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান চঞ্চল। তার পিঠে একটি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপক্ষের সংঘর্ষে সময় তাহেরপুর পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড এর শরিফ (৩৮) ও আলমগীর (৩০), গোয়ালকান্দির ইউপির আমজাদ হোসেন ওরফে বির আমজাদ (৪০), নয়ন (২২) সহ পরিচিত ও অপরিচিত ২৫ থেকে ৩০ জনকে দেশিও অস্ত্রে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, দুপক্ষের সংঘর্ষে চলাকালে চঞ্চল আহত অবস্থায় পালিয়ে যায়, পরে চঞ্চলের মৃত্যুর খবরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, এক সময়ের রক্তাক্ত বাগমারা আজ শান্তির জনপদে পরিণত করেছি। আর শান্তির এই জনপদকে আবারও অশান্ত করতে কতিপয় দুষ্টচক্র জামায়াত-বিএনপির মদদে তৎপর হয়ে উঠেছে। তাহেরপুরে তারই অংশ হিসাবে জামায়াতে-বিএনপির মদদপুস্ট হয়ে হত্যা, নির্যাতনসহ নানা রকম সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে উঠেছে ওই চক্রটি।

তিনি আরও বলেন, দলীয় নেতাকর্মীসহ সকলকেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে, সৃষ্টপরিস্থিতি মোকাবেলায় ধৈর্যর্শীল এবং সতর্ক থাকতে হবে।

ওসি নাছিম আহমেদ জানান, বেলা সাড়ে ১০টার দিকে মেয়র আবুল কালাম আজাদের সমর্থকরা জামগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষক ও এমপির সমর্থক গুলবার রহমানকে মারপিট করে জখম করে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনার জের ধরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাহেরপুর হরিতলা এলাকায় দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ওসি আরও জানান, আহতদের মধ্যে এমপির সমর্থক গুলবার ও প্রফেসর কাওসার আলী এবং মেয়রের সমর্থক চঞ্চল চন্দ্রকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যুবলীগ নেতা চঞ্চল মারা যান। এ ঘটনায় তাহেরপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তাহেরপুর ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক মাহাবুর রহমান বিপ্লবসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলে জানান ওসি।