রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮

রাজশাহী-৪: বিএনপি’র ২ প্রার্থী নিয়ে নেতাকর্মিরা বিব্রত

SONALISOMOY.COM
ডিসেম্বর ১, ২০১৮
news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহীর- ৪ (বাগমারা) আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এর প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী (বিএনপি)’র ২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মিরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন।

গত বুধবার নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে মনোনয়ন দাখিলের পর স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মিদের মধ্যে উৎসব আমেজ দেখা গেলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী (বিএনপি)’র ২ জন প্রার্থীর নমিনেশন নিয়ে স্থানীয় দলের নেতাকর্মিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

এই আসনে আ’লীগের ৯ জন ও বিএনপি’র ৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন উত্তোলন শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তে আ’লীগের ১ জন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এর প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী (বিএনপি)’র ২ জন, যুক্তফ্রন্টের ১ জন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন।

এরা হলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন আ’লীগের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি সাবেক এমপি অধ্যাপক আলহাজ আব্দুল গফুর, সাবেক এমপি আবু হেনা, যুক্তফ্রন্টের নেতা সিরাজুর করিম (এবল) ও ইসলামী আন্দেলন বাংলাদেশ এর নেতা তাজুল ইসলাম খান। এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এর প্রার্থী হিসেবে বিএনপি’র দুই নেতা মনোয়নপত্র জমা নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ দিন আন্দোলন-সগ্রাম রাজপথে ছিলেন এমন নেতার নিয়ে (বিএনপি)’র তৃণমূল রাজনীতিতে নিজ পছন্দের প্রার্থীর গুন-গান গাইছেন সমর্থক নেতা-কর্মীরা। বর্তমানে দীর্ঘ ১২ বছর পর নির্বাচনকে ঘিরে সর্বত্র উৎসব মুখর পরিবেশ গড়ে উঠলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এর প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী (বিএনপি)’র ২ জন প্রার্থীর দলীয় নমিনেশনসহ মনোনয়ন দাখিলে স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি সাবেক এমপি অধ্যাপক আলহাজ আব্দুল গফুর ও সাবেক এমপি আবু হেনা এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীকে নিয়েই উপজেলা বিএনপিতে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনটিও ২০০৮ সাল থেকে সৃষ্টি হয়। এক সময়ে এই আসনটি জামায়াত-বিএনপি’র ঘাটি হিসেবে পরিচিত। আগে মোহনপুর ও বাগমারাকে নিয়ে ছিল রাজশাহী-৩ আসন। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে কেবল বাগমারা নিয়েই একটি বাগমারা-৪ আসন করা হয়। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য হন ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দ্বিতীয় বারের মত সাংসদ নির্বাচিত হন।

এই আসনে সাবেক আ’লীগ নেতা আ’লীগের সমর্থন ও মনোনয়ন বি ত হয়ে বিএনপি’র দলীয় নেতাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে ১৯৯৬ হঠাৎ মনোনয়ন নিয়ে সংসদ নির্বাচিত হন সরকারের সাবেক আমলা আবু হেনা। এ আসনে ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এমপি ছিলেন বিএনপি নেতা আবু হেনা। স্থানীয়রা জানান, এই দীর্ঘ সময়ে তিনি বাগমারার এমপি থাকলেও তিনি দীর্ঘ দিনেও এলাকায় ফিরেননি। ২০০৫ সালে ২৪ নভেম্বর সালে বাগমারায় জঙ্গি উৎথানে বাগমারার জামায়াত-বিএনপিকে জড়িয়ে কটুক্তি করায় তিনি বির্তকিত ও বহিস্কার হন এবং দল থেকে নিস্ক্রীয় হয়ে পড়েন। স্থানীয় অভিযোগ করে বলেন, জেএমবি ও সর্বহারার দ্বারা এলাকাবাসী নির্যাতিত হলেও এমপি হিসেবে বাগমারাবাসীর কাছে তিনি এগিয়ে আসেননি। রাজনীতি করেছেন তিনি কনকর্ড টাওয়ার আর ঢাকার সোনারগাঁ শেরাটন হোটেলে বসে। মিছে জামায়াত ও বিএনপি সন্মন্ধে বিভ্রান্তিকর তার বক্তব্যে এলাকাবাসীর তোপের মুখে তিনি ২০০৮ সালে দলীয় মনোনয়ন পাননি। এসময় সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল গফুর দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বাগমারায় নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন। এই ঘটনার পর আবু হেনা দেশ থেকে বিদেশে পাড়ি জমান। দীর্ঘ ৫ বছর পর ২০১১ সালের ৪ মার্চ দেশে ফিরেন। এসময় তিনি দলে ভিড়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার চেষ্টা করে ব্যার্থ হন।

সম্প্রতি আবু হেনা বাগমারায় দীর্ঘ দিন পর সংস্কারপন্থীদের হাত ধরে দলে আসায় দলের তার অনুসারী নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ উৎসব লক্ষ্য করা গেলেও দলের একটি বড় অংশ তার আসার বিষয়ে ভিন্ন মত পোষন করেছেন। তারা আবু হেনাকে দলে ভিড়ায় দলীয় কোন্দল বাড়বে বলে অভিমত পোষণ করেন। তারা দাবী করেন গত নির্বাচনের সময় আবু হেনা বিতর্কিত হওয়ায় দলীয় ভাবে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। বিএপি’র সম্বন্ধে কটুক্তিতে দলীয় ভাব গাম্ভির্য নষ্ট হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগে বিগত দিনে বিএনপি’র বিষয় নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন। বিএনপি ভাঙ্গায় তিনি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। এবারেও মনোনয়ন নিয়ে আবারো দলকে ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র করবে বলে তারা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া আ’লীগের মনোনয়ন পাইয়ে নিতে তিনি ঢাকায় ৩০ লাখ টাকার প্রতারণার অভিযোগে কামরুল হাসান সুজন নামে বাগমারা উপজেলার আওয়ামী লীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক গ্রেপ্তার ও তার বিরুদ্ধে মামলায় জড়িয়ে আছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাকে ফেভারিট মনে না করায় তাকে মনোনয়ন পত্র না দিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরকে দেয়া হয়েছিল। এতে করে বাগমারার বিএনপি’র ঐক্যতা ফিরে আসে। সম্প্রতি বিএনপি ছেড়ে যাওয়া সংস্কারপন্থী ১২ জন নেতার সঙ্গে তিনি দলে ভিড়েছেন। জেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মাদ আলী, যুগ্ম সম্পাদক তাজুল ইসলাম টুটুল, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিকসহ উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মালেক মানিক, উপজেলা সেচ্ছা সেবক দলের সভাপতি জিল্লুর রহমান জানান, আবু হেনা এলাকায় ফেরায় দলের মধ্যে দলীয় কোন্দল দেখা দিতে পারে বলে তারা আশংকা প্রকাশ করছেন। উপজেলা যুব দলের আহবায়ক শহিদুজ্জামান মকুল বলেন, স্থানীয় ত্যাগী নেতাদের সাথে যারা বিগত সময়ে দলের সঙ্গে বেইমানি করেছেন, তাদের এনে এভাবে আগলে রাখা কোনো ভাবেই তারা মেনে নিতে পারছেন না। দলের নেতাকর্মীরা জানান, তিনি যে অন্যায় করেছেন সর্বোচ্চ তাদের দলে ফিরিয়ে আনা যায়। কিন্তু তাদের মনোনয়ন দেয়া মেনে নেয়া যায় না। আবারো তিনি দলের দুর্দিনে কাজ করবেন না বলে তারা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।