রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

খুনিদের বাঁচাতেই আমাকে নিয়ে কুৎসা রটনা: মিন্নি

SONALISOMOY.COM
জুন ৩০, ২০১৯
news-image

সোনালী সময় প্রতিনিধি: জেলা শহর বরগুনার কলেজ সড়কে প্রকাশ্য দিবালোকে শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি দোষীদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। স্বামীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক নানা মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, আমি শুনেছি ফেসবুকে আমাকে নিয়ে আজেবাজে কথা ছড়ানো হচ্ছে। মূলত খুনিদের বাঁচাতেই আমাকে নিয়ে এইসব কুৎসা রটনা চলছে।যারা এমন আজেবাজে কথা বলছে তারাও দোষী। তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়ার দাবি জানাই।

বরগুনা পৌর শহরের মাইঠা এলাকায় নিজ বাসভবনে শনিবার (২৯ জুন) রাতে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বলেন, চোখের সামনে আমার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি তাকে চেষ্টা করে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারিনি। এই ব্যর্থতার মধ্যেই মানসিকভাবে আমাকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে ফেসবুকে আমাকে নিয়ে বানোয়াট আজেবাজে কথা লেখা শুরু হয়েছে। সন্ত্রাসীরাই এইসব লিখতে মদদ যোগাচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই খুনিদের রক্ষা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দেশের মানুষের কাছে আমার দাবি, খুনিদের ফাঁসির পাশাপাশি রটনাকারীদের যেন শাস্তি দেওয়া হয়।

নিহত শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফের স্ত্রী বলেন, আমাদের বিয়ের বয়স দুইমাস। কিন্তু দুই-তিন বছর আমাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। আমরা একজন-আরেকজনকে ভালোবাসতাম। বিষয়টি আমাদের পরিবারকে জানালে দুইমাস আগে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে হয়।

আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বলেন, আমি তো আগেই বলেছি, বিয়ের আগে ও পরে নয়ন আমাকে রাস্তাঘাটে বিরক্ত করতো। জোর করে আমার রিকশায় ওঠতো। আমার সঙ্গে ছবি তুলতো।

ফেসবুকে তাকে নিয়ে মন্তব্যকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা আগে খুনিদের ধরতে সহযোগিতা করুন। এরপর আমার স্বভাব-চরিত্র বিশ্লেষণ করতে আসনে।

মিন্নি জানান শুক্রবার (২৮ জুন) বিকালে বরগুনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করে এসব কথা সাংবাদিকদের জানানোর কথা ছিল। কিন্তু অসুস্থতার কারণে তিনি প্রেসক্লাবে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে পারিনি।’

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। একাধারে রিফাতকে কুপিয়ে বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে হামলাকারীরা। তারা চেহারা লুকানোরও কোনও চেষ্টা করেনি। গুরুতর আহত রিফাতকে এদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় ২৭ জুন বৃহস্পতিবার সকালে রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ ১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।এখন পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মূল আসামি নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।