মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

বাগমারায় বালানগর মাদ্রাসায় নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

SONALISOMOY.COM
আগস্ট ৬, ২০১৯
news-image

বাগমারা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারার বালানগর কামির মাদ্রাসার নিয়োগ বাণিজ্যে শিক্ষার গুণগত মান নিম্নমুখী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় ভাবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্বল্প শিক্ষিত ও অদক্ষ ম্যানেজিং কমিটি হবার কারণে অর্থ বানিজ্যে অদক্ষ শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়েগে শিক্ষার মান উন্নয়নের বেহাল দশা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুনরায় এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৪টি ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণের পদে গোপনে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। পুনরস্থানীয়রা নিয়োগ বানিজ্যের আশংকায় নিয়োগ বন্ধ করতে গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্থানীয় ভাবে আবেদন করা হয়।

স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান বালানগর কামিল মাদ্রাসা। থানার নিকটে দিগন্ত মাঠ পেরিয়ে মনোরম পরিবেশে ১৯১৭ সালে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় মাদরাসাটি স্থাপিত। মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হবার পর থেকে শিক্ষার গুণগত মান রক্ষার্থে শিক্ষকরা যথাযথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু বিগত কয়েক টার্ম ধরে প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে চাকুরী প্রত্যাশিতদের জনপ্রতি ১২/১৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিয়োগ বানিজ্যে অদক্ষদের নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় ক্ষমতাশীন দলীয় পরিচয় ও প্রভাবশালীদের দাপটসহ নিয়োগ বানিজ্যে প্রশাসন নিরব থাকলেও স্থানীয়দের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের এমন বিষয়ে একাধিক অভিযোগ করে কোন লাভ হচ্ছেনা বলে অভিযোগ কারীদের স্থানীয় জাবেদ আলী নামে এক ছাত্র অভিভাবক দাবি করেছেন। তিনি বলেন, একটি মহল যত্রতত্র নিয়ম বর্হিরভূত অদক্ষ শিক্ষক নিয়োগ বানিজ্য, কমিটির অনুমোদন ছাড়াই কাজের নামে টাকা উত্তোলন ও আত্মসাত, সর্বপরি ব্যাংক একাউন্ট পরিবর্তনের চেষ্টা করে মাদরাসার টাকা তোসরপাতের নীল নকশায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগকারী দাবি করেন। তিনি মাদরাসার অধ্যক্ষ ও কতিপয় গভনিং বডির কমিটির যোগসাজসে মাদরাসার অর্থ উন্নয়ন কাজে না লাগিয়ে অর্থ আত্মসাত করেছে বলে তিনি একাধিক বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন । তিনি বলেন, এলাকাবাসীর দাবির মুখে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এক সময়ে ৫ সদস্য বিশিষ্ঠ একটি নিরীক্ষা কমিটি গঠন করে দেন। ওই নিরীক্ষা কমিটি দীর্ঘ ৯ মাস যাবত নিরীক্ষা অন্তে ৮ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাত করা হয়েছে মর্মে মাদরাসা কতৃপক্ষের নিকট ৭৮ পৃষ্ঠা নিরীক্ষা প্রতিবেদন দাখিল করেন। উক্ত টাকার এখনো সুরহা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরো বলেন, কয়েক দফা এলাকাবাসীর সাক্ষরিত আত্মসাতের প্রতিকার চেয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, দুর্নীতি দমন কমিশসসহ একটি অভিযোগ পত্র দাখিল রয়েছে। পুনরায নিয়োগ বানিজ্যে এধরনের অর্থ কেলেংকারীর ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি নিয়োগ বন্ধের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গতকাল মঙ্গলবার আবেদন জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে তা মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন।