বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

বাগমারায় অনিয়ম ঢাকতে কথিত ঠিকাদার মুরগী বাবুর কান্ড

SONALISOMOY.COM
সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯
news-image

বাগমারা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারায় কথিত ঠিকাদার ওয়ারেশ আলী বাবু ওরফে মুরগী বাবু নিজের অনিয়ম ঢাকতে বিভিন্ন দপ্তরে উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ দাখিল করেছেন। জানা গেছে, কথিত এই ওয়ারেশ আলী বাবুর নিজের নামে কোন ঠিকাদারী লাইসেন্স বা বৈধ কাজগপত্রাদী নাই। নিজের নামে কোন লাইসেন্স না থাকলেও দূর দুরান্তের ঠিকাদারকে হুমকী এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোর পূর্বক বিভিন্ন কাজ বাগিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, ওয়ারেশ আলী বাবু রাজশাহী, নাটোর সহ দূর দুরান্তের যে সকল ঠিকাদার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যে সকল উন্নয়ন মূলক নতুন এবং সংস্কার কাজ পায় তাদেরকে সে সকল কাজ করতে দেয়া হয় না। সেই সকল ঠিকাদার থেকে জোর পূর্বক কাজগুলো নেই বাবু। সেই কাজ গুলোর মান ঠিক না করেই উপজেলা প্রকৌশলীর নিকট বিল দাবী করেন। অতিদ্রুত সেই কাজের বিল পরিশোধ করতে চাপ প্রয়োগও করে থাকেন বাবু।

২০১৮ সালের মে মাসে রাজশাহীর আসলাম পারভেজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মচমইল মহাশশ্মানের নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মাণ কাজ পায়। যা নির্মাণে ব্যয়ে হবে ৫ লাখ টাকা। সেই ঠিকাদারকে নানা ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজটি বাগিয়ে নেই কথিত এই ঠিকাদার বাবু। সেই সাথে মানসম্মত ভাবে কাজটি না করায় নির্মাণ শেষের আগেই নিরাপত্তা প্রাচীরটি হেলে পড়েছে। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত সেটার নির্মাণ করা শেষ করতে পারেননি তিনি। এতদ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান অনিল কুমার সরকার নির্বাহী প্রকৌশলী সহ উপজেলা প্রকৌশলীকে বর্ণিত কাজের বিল প্রদান না করতে নিষেধ করেন। পরবর্তীতে এই কাজের বিল প্রদান করার জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে হুমকী প্রদান করেন। যাহা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ বাগমারা আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক অবগত আছেন।

বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন (নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডি) শেষে চুক্তি মোতাবেক কাজ ত্রুটি যুক্তকাজ করায় বিলটি তাকে পরিশোধ নাকরার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

অপরদিকে ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার সোনাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটির সংস্কার কাজ পাই আপেল কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদারী ওই প্রতিষ্ঠান। সেই কাজ জোর পূর্বক তার কাছ থেকে নেয় ওয়ারেশ আলী বাবু। বাবুর করা কাজের গুণগত মান সঠিক হয় না বলে ইউপি চেয়ারম্যান আজাহারুল হক অভিযোগ করায় উক্ত কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আপেল কনস্ট্রাকশনকেই কাজটি করার তাগাদা প্রদান করেন উপজেলা প্রকৌশলী ।

ওয়ারেশ আলী বাবুর করা মচমইল মহাশশ্মানের হেলে পড়া নিরাপত্তা প্রাচীরের বিল পরিশোধ না করায় উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরে প্রবেশ করে লানছিত করেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিউল ইসলাম অবহিত হন। সেই ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট মুচলেখা দিয়ে ছাড়া পান বাবু। সেই সাথে উপজেলা চত্বরে প্রবেশ করবে না বলেও ইউএনওকে জানিয়েছেন তিনি। শুধু প্রকৌশলীকে নয় উপজেলার পিআইও অফিস, বিএমডিএ, মৎস্য অফিস সহ বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে জোরপূর্বক অবৈধ ভাবে কাজ করতে চান বাবু। তার কথায় রাজি না হলে দেখে নেয়ারও হুমকী দেন অফিসারদের।

এদিকে ভবানীগঞ্জ থেকে কেশরহাট এবং ভবানীগঞ্জ থেকে আত্রাই পাকা রাস্তাটির মেরামত কাজ পাই মোঃ হাফিজুর রহমান নামের স্থানীয় এক ঠিকাদার। রাস্তা দুটি সংস্কারে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা। সেই কাজটি শেষ হওয়ার আগেই তা নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করে জনৈক ঠিকাদার মোহনপুরের নজরুল ইসলাম । অন্যদিকে বাবুর করা অভিযোগে উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে রিং পাইপ সরবরাহের নামে ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যা তদপ্ত পূর্বক মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তা নিষ্পত্তি করে দুদক। জোর করে প্রশাসনের নিকট থেকে কাজ আদায় সহ বিল উঠাতেই নানা অনিয়মের মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করে চলেছে বাবু।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন বলেন, ওয়ারেশ আলী বাবু ওরফে মুরগী বাবু জোর পূর্বক ক্ষমতা দেখিয়ে হেলে পড়া কাজের বিল প্রদান করতে চাপ প্রয়োগ করে থাকেন। তাকে উক্ত কাজের বিল প্ররিশোধ না করায় আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করেছেন। তিনি আরো বলেন, যারা সঠিক ভাবে কাজ করেছেন, তাদের কারো বিল আটকানো হয় না।