শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯

প্রধানমন্ত্রীর আওয়ামী লীগ সভাপতি পদ ছাড়ার গুঞ্জন

SONALISOMOY.COM
নভেম্বর ৯, ২০১৯
news-image

ডেস্ক রিপোর্ট : আগামী ২০ এবং ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হচ্ছে। এই কাউন্সিল অধিবেশনকে ঘিরে অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে এবার আলোচনা এবং জল্পনা কল্পনা অনেক বেশি হচ্ছে।

বিশেষ করে আওয়ামী লীগে যখন শুদ্ধি অভিযান চলছে। দলের সুবিধাবাদী এবং বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে তখন অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে এবার কাউন্সিল নিয়ে আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের বাইরে মানুষের মধ্যে আগ্রহ অনেকবেশি। কিন্তু এর মধ্যে একটা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ঘনিষ্ঠদের বলেছেন, তিনি আর দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে চান না।

উল্লেখ্য যে, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর ৭ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ সরকার মন্ত্রিসভা গঠন করে। এ সরকার গঠনের পরপরই আল জাজিরা টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, এবারই শেষ মেয়াদ এরপর আর তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ নেবেন না। সেই হিসাবে ২০২৩ সালে পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভাপতি তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদত্যাগ করবেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি প্র’তিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।

তবে আওয়ামী লীগ সভাপতির একান্ত ঘনিষ্ঠরা বলেছেন যে, শেখ হাসিনা তার সেই অবস্থান থেকে একবিন্দুও সরে আসেননি, বরং তিনি বিভিন্ন আলাপ আলোচনায় বার বার ঐ একই আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, পরবর্তী নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন না এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।

সেই থেকেই বিবেচনা থেকেই ধারণা করা হচ্ছিলো যে, ২০২৩ পর্যন্ত হয়ত আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব শেখ হাসিনা রাখবেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেই তিনি রাজনীতি থেকে অবসরে যাবেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তিনি তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠদেরকে বলেছেন যে, তিনি চান দলে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়া হোক, সরকার এবং দল আলাদা থাকুক। এ বিবেচনা থেকেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে চান। আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলের নেতাকর্মীরা যেন অন্য কাউকে বেছে নেয় তিনি কাউন্সিলে অনুরোধ রাখবেন বলেই তার ঘনিষ্ঠদেরকে বলেছেন।

উল্লেখ্য, দলের সভাপতির পদ ছাড়ার বিষয়টি নতুন নয়। এর আগেও অন্তত তিনটি কাউন্সিলে তিনি বলেছেন যে তিনি দায়িত্ব পালন করতে চান না। কিন্তু নেতাকর্মীদের আবেগের কাছে তাকে পরাজিত হতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৮১ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন শেখ হাসিনা। ৩৮ বছর ধরে সভাপতির পদে থাকা অনেক দীর্ঘ সময় বলে দলের অনেক ঘনিষ্ঠ নেতাদের কাছে মন্তব্য করেছেন শেখ হাসিনা। তাই তিনি বলেছেন যে, আর তিনি এই পদে থাকতে চান না।

কিন্তু, ধারণা করা হচ্ছে যে এবারও তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়বেন। কারণ আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনার বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি। নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার বাইরে কাউকে চিন্তাও করতে পারে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শেখ হাসিনা হয়ত কাউন্সিলে এরকম একটি ঘোষণা দেবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ঘোষণা কর্মীদের চাপের মুখে টিকবে কিনা সেটাই দেখার বিষয়। তবে আওয়ামী লীগ সভাপতির ঘনিষ্ঠরা বলছেন যে, যেকোনো সময়ের চেয়ে শেখ হাসিনা এবার আরও অনমনীয় অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মনে করছেন যে, সভাপতির পদটি ছাড়ার এটাই উপযুক্ত সময়। সভাপতির পদ ছাড়লেও তিনি আওয়ামী লীগের একজন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, এমন মনোভাবও তিনি ব্য’ক্ত করেছেন।

আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন যে, আগামী বছর থেকে শুরু হচ্ছে মুজিব বর্ষ। ৮ ডিসেম্বর থেকে মুজিব বর্ষের কাউন্টডাউন শুরু হবে। সেই বিবেচনায় শেখ হাসিনা এখন দলের সভাপতির পদ ছাড়বেন, এমনটি মেনে নেওয়ার মতো নয়। পরবর্তী কাউন্সিলে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে, তখন নতুন নেতৃত্ব আসবে।

তবে আওয়ামী লীগ সভাপতির ঘনিষ্ঠরা বলছেন, শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, নতুন নেতৃত্ব ঠিক করবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া নেতৃত্ব কখনো দল বা গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়।