শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৯

বাগমারায় জেএমবি ক্যাডারদের আক্রমনে আ’লীগ নেতা বাড়ী ছাড়া

SONALISOMOY.COM
ডিসেম্বর ২০, ২০১৯
news-image

বাগমারা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোলাকান্দী ইউনিয়নের কনোপাড়া গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা মোকছেদ আলীকে জেএমবি ও বিএনপি ক্যাডাররা প্রান নাশের হুমকি দিয়ে বাড়ী ছাড়া করেছে।

এদিকে মোকছেদকে না পেয়ে গত ১৯ ডিসেম্বর তার অনুসারি গিয়াস আলীকে সবসার দিঘীর পাড়ে কনোপাড়া গ্রামের জেএমবি ক্যাডার আব্দুল মান্নান ও তার ছেলে সাদ্দাম মিলে বেধরক পিঠিয়ে আহত করে একই ঘটনার জেরে ২০ ডিসেম্বর, সকালে সবসার পাড়ে মোকছেদের ভ্যান চালক গিয়াস উদ্দিনকে জেএমবি মান্নান গ্রুপের ক্যাডার সাইদুর ও আরো কয়েক জন ক্যাডার পিঠিয়ে আহত করে।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গোলাকান্দী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলী সভাপতি মোকছেদ আলীর সবসার দীঘি ও পুকুরে মাছ চাষকে কেন্দ্র করে জেএমবির ক্যাডার মান্নান ও তার বাহিনী মোকছেদ আলীর কাছে দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্রো করে চলতি মাসের ৫ ডিসেম্বর ওই দিঘী ও পুকুরে একই সাথে বিষ প্রয়োগের ঘটনায় প্রায় কোটি টাকার অধিক মূল্যের বিভিন্ন জাতের মাছ নিধন করা হয়।

পরে এই ঘটনায় বাগমারা থানায় সাত জনের নাম উল্লেখসহ ও আরো অজ্ঞাত ১০ থেকে ১২ জনের নামে মামলা দায়ের হলে পুলিশ ৩ জনকে আটক করে ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার গোয়ালকান্দী ইউনিয়নটি এক সময় সর্বহারা অধ্যুষিত এলাকা হিসাবে পরিচিত ছিল। ওই সময় সর্বহারাদের হাতে আবুল হোসেন মেম্বার, মোনাক্কা, চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সরকার সহ অনেকে খুন হয়। এ সকল ঘটনায় খুনের ঘটনায় এলকায় চরম অরাজগতার সৃষ্টি হয়। পরে ২০০৪ সালে সর্বহারা দমনের নামে বাংলাবাহিনীর আগমন ওই গোয়ালকান্দীতেই ঘটে।

সে সময় ওই এলাকার ত্রাস হিসাবে পরিচিত জেএমবি ক্যাডার আব্দুল মান্নান, ইসামইল হোসেন, ডাবলু সহ অনেক চিহ্নিত সর্বহারারা বাংলা ভাইয়ের দলে যোগ দিয়ে সর্বহারার স্টাইলে এখাকায় খুন চাঁদাবাজি সহ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। পরে র‌্যাব মাঠে নামার পরে বাংলা ভাইয়ের ক্যাডাররা আত্মগোপনে চলে যায় । তাদের অনেকে জেল খাটে ও অনেকের ক্রসফায়ারে মৃত্যুহয়।

এসব ক্যাডারদের মধ্যে আত্মগোপনে থাকা ও জেল থেকে ছাড়া পাওয়া ক্যাডাররা আবার এলাকায় ফিরে এসে সংগঠিত হয়ে আবার চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন নিরীহ ব্যক্তিকে হুমকি দিতে শুরু করে চাঁদাবাজি । জানা গেছে জেএমবি আব্দুল মান্নান, ইসমাইল হোসেন ও ডাবলু সহ তাদের অনেকের বিরুদ্ধে আদালতে জেএমবি’র একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। তারই ধারাবাহিকাতয় সবসার দিঘী ও পুকুরে লীজ গ্রহীতা মকছেদ আলীর নিকট জেএমবি মান্নানের ছেলে সাদ্দাম হোসেন দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেন। পুকুর মালিক তাদের ওই দাবীকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় চলতি মাসের ৫ ডিসেম্বর সেখানে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটায়।