বুধবার, ৪ আগস্ট, ২০২১

ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের পাশাপাশি প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে সিনেসিস আইটি

SONALISOMOY.COM
জুলাই ১২, ২০২১
news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক: তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে দেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেবা হচ্ছে আইসিটি সেবা। আর সেই সেবার মাধ্যমে দেশের মানুষকে প্রযুক্তির উন্নত শেখরে পৌঁছে দিতে নিবিরভাবে কাজ করে যাচ্ছে আইসিটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সিনেসিস আইটি।

প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আলাপকালের প্রথমে সেন্ট্রাল বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন মনিটরিং প্ল্যাটফর্ম (সিবিভিএমপি) প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে সিনেসিস আইটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহরাব আহমেদ চৌধুরী বলেন, বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন মনিটরিং প্ল্যাটফর্ম (সিবিভিএমপি) দেশের মানুষকে তথ্য নিরাপত্তার সাথে সাথে সরকারকে বড় একটি রাজস্ব আদায় এবং টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন নিয়মাবলী প্রবর্তনের কাজ করে যাচ্ছে। ২০১০ সালে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৬৭.৯২ মিলিয়ন সেটা ২০১৯ সালে এসে দাঁড়ায় ১৬৫.৫৭ মিলিয়ন। সিবিভিএমপি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রতিটি সিম কার্ড নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবির সত্যতা সঠিকভাবে যাচাই করাসহ ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্টেও নিয়ে আসা হয়েছে ডিজিটালাইজেশন। সম্প্রতি এই প্রকল্পের জন্য আমরা উইসিস উইনার পুরস্কার অর্জন করেছি। এছাড়াও কৃতজ্ঞতা আমাদের টিম মেম্বারদের প্রতি, যাদের নিরলস প্রচেষ্টায় শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এই প্রকল্পটি এক সেকেন্ডের জন্য ও ডাউনটাইম হয়নি।

তিনি আরও বলেন, সিবিভিএমপি-এর মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ২৬০ মিলিয়নেরও বেশি সিম কার্ড নিবন্ধিত হয়েছে। এর মধ্যে ইউনিক সাবস্ক্রাইব ১৩৫ মিলিয়ন। এছাড়াও প্রতিদিন গড়ে ১.৪ লাখেরও বেশি মানুষ বিভিন্ন মাধ্যমে সিবিভিএমপি-সিস্টেমে নিবন্ধিত হচ্ছে। একই সাথে সিবিভিএমপি প্রতিটি মোবাইল অপারেটরের সিম ডাটার সর্বাধিক লেনদেনের ডাটাবেস তৈরি করতেও সক্ষম হয়েছে। যেটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০টি ডাটা রেজিস্ট্রেশন করতে পারে।

সিনেসিস আইটির মাধ্যমে কী কী সেবাসমূহ প্রদান করা হয় সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সিনেসিস আইটি লিমিটেড সিএমএমআই লেভেল ৩ সার্টিফাইড একটি আইসিটি প্রতিষ্ঠান যা ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সরকারি ও বেসরকারি খাতে ই-গভর্নেন্স, ই-হেলথ অ্যান্ড টেলিহেলথ, কন্টাক্ট সেন্টার সল্যুউশন, টেন্ডার-বাজার ডটকমের মাধ্যমে সেবা দিয়ে আসছে। এছাড়াও তথ্যঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া যথাযথভাবে পরিপালনের স্বীকৃতি হিসেবে আইএসও ২৭০০১:২০১৩ সনদ এবং আইএসও ৯০০১ অর্জন করেছে সিনেসিস আইটি। ৫৫০ জনেরও বেশি লোকবল নিয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থ বিডিবিএল ভবনের মূল অফিস থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এখন পর্যন্ত সিনেসিস আইটি বাংলাদেশ সরকারের ১৫০টির ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টে কাজ করছে এবং জাতীয় পর্যায়ে ২৫ টির ও অধিক কন্টাক্ট সেন্টার পরিচালনা করে যাচ্ছে। এসব প্রজেক্টের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, এনইআইআর, সিবিভিএমপি, ই-টিন, একপে, ওয়াসা লিংক ১৬১৬২, ইএফডিএমএস, ই-স্টাইপেনড, অনলাইন জিডি, এমপিও অটোমেশন, জিইআরপি, ইএমআইএস ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এবং স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩, কোভিড ১৯ টেলি হেলথ সেন্টার, সুখি পরিবার ১৭৬৭৬, প্রবাস বন্ধু, স্বাস্থ্য সেবার হেল্পলাইন ৭৮৯, মাইন্ড টেল ৭৮৯৯ সহ আরও অনেক জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কল সেন্টার রয়েছে।

দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিনেসিস আইটির কী ধরনের বিশেষত্ব রয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোহরাব আহমেদ চৌধুরী বলেন, সিনেসিস আইটি বর্তমানে ২০টিরও বেশি এসএমএস সার্ভিস গেটওয়ের মাধ্যমে সরকারের ডিজিএইচএস, এলজিআরডি, ডিএই, বিএসটিআই, বাংলাদেশ আর্মি, ওয়াসা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানকে সেবা দিয়ে থাকে। ৭টিরও বেশি মোবাইল অ্যাপস, ৭০টিরও বেশি ড্যাশ বোর্ড মনিটরিং সিস্টেম, ৫টিরও বেশি অনলাইন ভেরিফিকেশন, ২টিরও বেশি হাই টিপিএস, ৩ টিরও বেশি ই-চালান ব্যবস্থা করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এছাড়াও পাবলিক সেক্টরে ডিজিটাল সার্টিফিকেট প্রবর্তন হতে শুরু করে এনআইডি ইন্টিগ্রেশন এবং আইডেন্টিটি সল্যুউশনে সিনেসিস আইটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ইতোমধ্যে সিনেসিস আইটি মোবাইল হেলথ অ্যান্ড টেলিহেলথ সেবার মাধ্যমে প্রায় ২.৫ কোটিরও বেশি মানুষকে এবং শুধুমাত্র করোনাকালীনে ১.২৫ কোটি মানুষকে সেবা দেওয়ায় বাংলাদেশর সর্ববৃহৎ টেলিহেলথ সেবাপ্রদানকারি সংস্থা হিসেবে খ্যাতি লাভ করে। তাছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রতিনিয়তই কাজ করে যাচ্ছে সিনেসিস আইটি।

দেশের তৈরি সফটওয়্যার না কিনে কেন বড় বড় কোম্পানিগুলো দেশের বাইরে থেকে সফটওয়্যার নিয়ে আসছে এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, আসলে দেশের আইটি কোম্পানিগুলো সম্পর্কে বড় বড় কোম্পানিগুলোর ধারণা এখনো আগের মতোই রয়ে গেছে। অনেকেরই ধারণা দেশে তৈরি প্রযুক্তি হয়তো সাস্টেইনেবল না, অথবা চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম নয়। ফলে তারা দেশীয় প্রযুক্তি গ্রহণে আগ্রহী নয়। অথচ আমরা দেশীয় প্রযুক্তিতে এমন কিছু সফটওয়্যার আনতে সক্ষম হয়েছি, যা সাশ্রয়ী এবং ক্ষেত্র বিশেষে অনেক আধুনিক ও শক্তিশালী। যেমন, আমাদের কল সেন্টার সল্যুউশন দিনে প্রায় ৩,০০,০০০ কল গ্রহণ করতে সক্ষম। এই বিপুল পরিমাণ কল গ্রহণের সম সক্ষমতাপূর্ণ বিদেশি সফটওয়্যার যদি আপনি কিনতে যান তাহলে অনেক বেশি খরচ পড়বে। তাছাড়াও অবকাঠামো আপনার নিজস্ব অফিসে সেটআপ করতে হবে যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। কিন্তু সিনেসিস আইটি সমমানের সেবা প্রদান করতে সক্ষম হচ্ছে অনেক কম খরচে। আমার বিশ্বাস, আমরা এই তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অগ্রযাত্রাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং দেশের লোকাল মার্কেট ছাড়িয়ে বিদেশেও সুনাম অর্জনে সক্ষম হবো।

দেশীয় সফটওয়্যার বাজারের ব্যবসা বর্তমানে কেমন চলছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের সফটওয়্যার খাতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বেসিস এর হিসাব মতে বাংলাদেশে প্রায় ৮০০ এর বেশি ছোট বড় সফটওয়্যার এবং আইটি কোম্পানি রয়েছে। এবং বর্তমানে প্রায় ৩০,০০০ এর ও অধিক আইটি প্রফেশনাল কাজ করছে। এই ইন্ডাস্ট্রি এর আকার প্রায় ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বেশিরভাগ আইটি কোম্পানিই ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট এবং কনটেন্ট ক্রিয়েশন, ডাটা প্রসেসিং এবং সফটওয়্যার মেইনটেনেন্স এর কাজ করে এবং বেশির ভাগ কোম্পানি দেশের লোকাল মার্কেট এ কাজ করছে। তবে বড় বড় কোম্পানি গুলো দেশের স্বার্থে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, ই-গভর্নেন্স এবং ই-লার্নিং এর কাজ করে যাচ্ছে। আমার মতে দেশের আইটি সেক্টরে একটি বুম হয়েছে যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। আমার বিশ্বাস আমরা এই তথ্য প্রযুক্তি খাতে অগ্রযাত্রাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হব এবং দেশের লোকাল মার্কেট ছাড়িয়ে বিদেশেও সুনাম অর্জনে সক্ষম হব।