বুধবার, ৪ আগস্ট, ২০২১

বিশ টাকায় ১১পিচ হাটেই ফেলে দিচ্ছেন চামড়া

SONALISOMOY.COM
জুলাই ২১, ২০২১
news-image

বাগমারা প্রতিনিধি: পরিবহণ ভাড়ায় মিলছেনা কোরবানির পশুর চামড়ায়। বিক্রি না হওয়ায় হাটেই ফেলে দিচ্ছেন চামড়া। চামড়া বিক্রয় না হওয়ার মূল কারণ করোনার কারনে নেই আগের মতো দূর দূরান্তের পাইকারী ক্রেতা। যে কয়জন এসেছেন তারাও বিপাকে পড়েছেন। চামড়া শিল্পে সরকারী তেমন কোন সহায়তা না থাকায় দিনের পর দিন ধ্বস নামছে এই শিল্পে।

এক সময় দেশ এবং দেশের বাহিরে পশুর চামড়ার চাহিদা ছিল অনেক। মহামারি করোনা ভাইরাসের কারনে বিশ্বব্যাপি চামড়ার কদর কমে গেছে। এবার রাজশাহীর বাগমারায় প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার পশু কোরবানি দেয়া হয়েছে। সরকার পশুর চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও গ্রামাঞ্চলে সেটা কোন কাজেই আসেনি।

গরু, ছাগল, ভেড়া এবং মহিশের চামড়া নিয়ে হাটে এসেই চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে লোকজনকে। নেই তেমন চামড়ার ক্রেতা। ক্রেতা না থাকায় দামও নেই আশানরুপ। পশুর চামড়া বিক্রির টাকা মূলত গরীব, দুখী ও অসহায় মানুষের মাঝে দান করা হয়ে থাকে। কয়েক বছর আগেও যেখানে গরুর চামড়ার দাম ছিল ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা। কয়েক বছরের ব্যবধানে বর্তমানে গরুর চামড়া বিক্রয় হচ্ছে দেড় শত থেকে সর্বোচ্চ ৬ শত টাকায়। অন্যদিকে ছাগলের চামড়ার দাম ছিল ৩ শত থেকে ৮শত টাকা। সেখানে ছাগলের চামড়া বিক্রি হচ্ছে ২ টাকা থেকে ২৪ টাকায়।

 

 

অনেক ছাগলের চামড়া আবার পাইকারের পছন্দ না হওয়ায় দামই দিচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে হাটেই ফেলে দিতে হচ্ছে ওই সকল চামড়া। ফেলে দেয়া চামড়া কুড়িয়েও নিচ্ছেন না কেউ। হাটের জায়গা পরিস্কার করতে ইজারাদারা লোকজন দিয়ে তুলে অন্যত্র নিয়ে ফেলে দিচ্ছেন ফেলে দেয়া সেই চামড়াগুলো।

কথা হয় হাটে আসা চামড়ার ব্যবসায়ী মোহনপুর উপজেলার বারুইপাড়া গ্রামের গাফ্ফার হোসেন, বাগমারা উপজেলার কোন্দা গ্রামের আশরাফুল ইসলাম, আমান আলী, মচমইল গ্রামের বাবুল হোসেন, আসাদুল ইসলাম সহ কয়েকজনের সাথে। তারা জানান একটি গরুর চামড়া পরিস্কার করতে ৫-৭ কেজি লবন প্রয়োজন হয়ে থাকে।

অন্যদিকে একটি ছাগলের চামড়ায় লাগে দেড় থেকে ২ কেজি লবন। তারা আরো জানান, লবনের দাম, শ্রমিকের মজুরী, হাটের খাজনা, পরিবহণ ব্যয় সহ আনুষঙ্গিক অনেক খরব হয়ে যায় এক একটি চামড়ার পিছনে। সব কিছু হিসাব করতে গেলে কোন ভাবেই লাভ করা যাবে না চামড়া বিক্রয় করে।

এবার উপজেলার মচমইল, মোহনগঞ্জ, হাট-গাঙ্গোপাড়া, শিকদারী, তাহেরপুর, ভবানীগঞ্জ সহ আরো কয়েকটি স্থানে পশুর চামড়ার হাট বসানো হয়েছিল। মচমইল হাটে গিয়ে দেখা গেছে ১১টি ছাগলের চামড়ার বিক্রয় হয়েছে মাত্র ২০ টাকায়। অনেকে চামড়া বিক্রয় করে পরিবহণের ভাড়াটুকুও পায়নি। অনেকে পাইকার না পেয়ে হাটেই চামড়া রেখে গেছে। অনেক ক্রেতা হাট থেকে চামড়া কিনে নাটোরে নিয়ে গিয়ে বিক্রয় করবে।

আবার কেউ কেউ বাড়িতে লবন দিয়ে প্রাথমিক ভাবে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে কিছুদিন পর বিক্রয় করবে। গাফফার নামে এক চামড়া ব্যবসায়ী জানান, প্রতি কোরবানির ঈদে ৪শত থেকে ৫শতটি চামড়া ক্রয় করেন। সেগুলো নিজের বাড়িতেই লবন দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে কয়েকদিন পর মোকামে নিয়ে গিয়ে বিক্রয় করে থাকেন।

মচমইল হাটের ইজারাদার আব্দুল মমিন জানান, পশুর চামড়ার এই অবস্থা হবে এটা কল্পনায় করা যায় না। দাম না থাকায় অনেকে ছাগলের চামড়া হাটে ফেলে দিয়ে গেছে। চামড়া শিল্পকে রক্ষায় এখনই সরকারকে যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাছাড়া ভবিষ্যতে চামড়া শিল্প মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারবে না।