বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০২২

‘বিশ্ববাজারের দক্ষ কর্মী সৃষ্টিতে রাজশাহীতে অত্যাধুনিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন’

SONALISOMOY.COM
জুলাই ৪, ২০২২
news-image

শ‌ফিকুল ইসলাম, রাজশাহী: পদ্মাপড়ের সৌন্দর্য্যমণ্ডিত ছোট্ট ছিমছাম বিভাগীয় শহর রাজশাহী। প্রাণের রাজশাহী শহরে পিচঢালা পাকা রাস্তা আর সড়কে রং-বেরঙ্গের আলোকসজ্জা (বাতি) যেন বাইরের পর্যটকদের বাড়তি বিনোদনের খোরাক। সেই সাথে পুরো মহানগরীজুড়ে সড়কের দুইপাশসহ আইল্যান্ডে নানা প্রজাতির ফুল, ফল আর ওষধি গাছের মন মাতানো হিমেল হাওয়া পুরো নগরবাসীকে করেছে বিশুদ্ধ। শুধু তাই নয়; শহরের কোল ঘেষে বয়ে যাওয়া প্রমত্তা পদ্মার ধারে নির্মল বিনোদনের নতুন নতুন স্পট বিনোদনপ্রেমীদের করে তুলছে সবুজ-সতেজ। গ্রিন, ক্লিন, হেলদি এই সবুজ শহরের আরেক পুরনো নাম শিক্ষানগরী। গ্রিন, ক্লিন, হেলদি কিংবা স্মার্ট নগরী হিসেবে ইতোমধ্যেই এই শহরটি পেয়েছে পূর্ণতা। কিন্তু বিশ্ববাজারের চাহিদা পূরণে দক্ষ কর্মী সৃষ্টিতে শিক্ষানগরীখ্যাত রাজশাহীতে অত্যাধুনিক বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অপ্রতুল। তাই দেশ তথা বিশ্বের মডেল এই সিটিতে যুগের চাহিদা অনুযায়ী একটি বিশ্বমানের আধুনিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বড়ই প্রয়োজন বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদগণ।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্রে জানা গেছে- দেশে বর্তমানে ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাতেই ৬২টি। মোট চালু রয়েছে ৯৭টি। অনুমোদন নেওয়ার পরও নানান জটিলতায় কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ রয়েছে। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই মানসম্মত ও উন্নত শিক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতিত বাকি সবগুলোই রূপান্তরিত হয়েছে সনদ বাণিজ্যের কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কারখানায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ১০৭টি আবেদন জমা হয়ে পড়েছিল। এসব আবেদনের মধ্যে ৩০টির পরিদর্শনকাজ শেষ করে ইউজিসি থেকে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা ও বাইরের বিভিন্ন জেলায় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ এর অধীনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদনের জন্য উদ্যোক্তাদের আবেদন জমা দিতে হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। আবেদনের ভিত্তিতে ইউজিসি পরিদর্শন রিপোর্ট জমা দিলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে ১৫ টি বিশ্ববিদ্যালয় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রাজশাহী বিভাগের আট জেলা মিলিয়ে শিক্ষানগরী রাজশাহীতে ‘সোনার বাংলা ইউনিভার্সিটি’ নামের একটি বিশ^বিদ্যালয় চূড়ান্ত অনুমোদনের তালিকায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে- রাজশাহীতে পরিবর্তিত, উন্নত বিশ্ব তথা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বিশ^বাজারের চাহিদা পূরণে দক্ষ জনবল তৈরীর লক্ষ্যে ‘সোনার বাংলা ইউনিভার্সিটি’র চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য রাজশাহীর শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রীর নিকট অনুরোধন জানিয়েছেন। আর এই বিশ্ববিদ্যালয়টির উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছেন- আধুনিক রাজশাহীর রূপকার ও স্বপ্নদ্রষ্টা, মডেল সিটির নগরপিতা এ.এইচ.এম. খায়রুজ্জামান লিটন এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও দক্ষ মানুষ গড়ার কারিগর এডভোকেট মো. আরমান আলী।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে দেশের মডেল কলেজ হিসেবে পরিচিত রাজশাহী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মহা. হবিবুর রহমান বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলের বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে একটি ‘স্পেশালাইজড’ (কৃষি) বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘদিনের। শিক্ষানগরী হিসেবে এই অঞ্চলে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একান্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি রাজশাহীতে বর্তমান অত্যাধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারে দক্ষ কর্মী সৃষ্টির লক্ষ্যে উন্নতমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের অভাব রয়েছে। আমি আশাবাদী, এই অভাব পূরণে ‘ সোনার বাংলা ইউনিভার্সিটি’র চূড়ান্ত অনুমোদন এখন যুগের দাবি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় মোটামুটি ভালো। বাকিগুলোর নিজস্ব কোনো ক্যাম্পাস নেই। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় বিল্ডিং ভাড়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা তো দিচ্ছেই না; বরং দেদারছে সনদ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। তাই ‘সোনার বাংলা ইউনিভার্সিটি’ চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে নিজস্ব ক্যাম্পাসে অত্যাধুনিক শিক্ষা উপকরণ ও দক্ষ জনবল গড়ার কারিগরদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিশ্বমানের মানবসম্পদ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।’ শুধু রাজশাহী কলেজের সাবেক এই প্রথিতযশা অধ্যক্ষই নন; রাজশাহীর অধিকাংশ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদগণের দাবি- ‘সোনার বাংলা ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা অত্যাধুনিক শিক্ষা অর্জন করে আগামীর স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

জানতে চাইলে ইউজিসির সদস্য (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যাপক বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, ‘এ পর্যন্ত সারাদেশে ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তাদের অনেকে এখনো কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। অনেকে আবার আইন অমান্য করে একাডেমিক-প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। হাতেগোনা কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষক সংকট রয়েছে। অনেকে আবার সনদ বাণিজ্য ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে চাচ্ছে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) আবু ইউসুফ মিয়া বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ইউজিসি থেকে যে কয়টি পরিদর্শন প্রতিবেদন আমাদের কাছে এসেছে আমরা তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছি। সেখান থেকে অনুমোদনের জন্য সম্মতি এলে তাদের অনুমোদন দেওয়া হবে। এ সংখ্যা ১৫ থেকে ২০টির মতো হতে পারে।’