রবিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩

জাতীয় বীজ বোর্ডের অনুমোদন পেল ধানের নতুন তিনটি জাত

SONALISOMOY.COM
ডিসেম্বর ২৭, ২০২২
news-image

সোনালী সময় ডেক্সঃ
জাতীয় বীজবোর্ডের অনুমোদন পেল বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত আরো তিনটি নতুন ধানের জাত।
জাতীয় বীজবোর্ডের অনুমোদন পেল বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত আরো তিনটি নতুন ধানের জাত।
জাতীয় বীজ বোর্ডের অনুমোদন পেল বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত ধানের নতুন তিনটি জাত। গতকাল সোমবার জাতীয় বীজ বোর্ডের ১০৮তম সভায় ওই অনুমোদন দেওয়া হয়। ব্রি উদ্ভাবিত নতুন তিনটি জাত হচ্ছে আমন মৌসুমের জন্য ব্রি ধান-১০৩ এবং বোরো মৌসুমের জন্য ব্রি ধান–১০৪ ও ব্রি হাইব্রিড ধান–৮।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় বীজ বোর্ডের সভাপতি ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব সায়েদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ জাতগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়। আজ মঙ্গলবার ব্রি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় ব্রির মহাপরিচালক শাহজাহান কবীরসহ কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানেরাও উপস্থিত ছিলেন
জাতীয় বীজবোর্ডের অনুমোদন পেল বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত আরো তিনটি নতুন ধানের জাত।
জাতীয় বীজবোর্ডের অনুমোদন পেল বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত আরো তিনটি নতুন ধানের জাত।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন উদ্ভাবিত ব্রি ধান–১০৩ আমন মৌসুমের একটি জাত। জাতটি ব্রি ধান–২৯–এর সঙ্গে সংকরায়ণ করা এবং পরবর্তী সময়ে অ্যান্থার কালচার পদ্ধতি (জীবপ্রযুক্তি) ব্যবহার করে জাতটি উদ্ভাবন করা হয়। এ জাতের ধানের পূর্ণবয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১২৫ সেন্টিমিটার। ডিগ ও পাতা খাড়া। চাল লম্বা ও চিকন। এক হাজার পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২৩ দশমিক ৭ গ্রাম। ধানে অ্যামাইলেজের পরিমাণ ২৪ ভাগ। এ জাতটির গড় জীবনকাল ১৩২ দিন। এ জাতের ধানের গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ৬ দশমিক ২ টন। উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে জাতটি প্রতি হেক্টরে আট টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম।
ব্রি ধান–১০৪ সংকরায়ণ করে এবং পরবর্তীকালে বংশানুক্রম সিলেকশনের মাধ্যমে উদ্ভাবিত হয়। ব্রি গাজীপুরের গবেষণা মাঠে হোমোজাইগাস কৌলিক সারিটি (সমজাতীয় ধানের সারি) নির্বাচন করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত হোমোজাইগাস কৌলিক সারিটি পাঁচ বছর ফলন পরীক্ষার পর ২০১৯ সালে ব্রির আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোর গবেষণা মাঠে ও ২০২০ সালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের মাঠে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। ২০২১ সালে বীজ প্রত্যয়ন সংস্থা কর্তৃক ধানটির পরীক্ষা–নিরীক্ষা চলে। সব ক্ষেত্রেই নতুন জাতের ধানটির ফলন সন্তোষজনক হওয়ায় জাতীয় বীজ বোর্ডের মাঠ মূল্যায়ন দলের সুপারিশের পর বোর্ডের সভায় ব্রি ধান–১০৪ বোরো মৌসুমের উন্নত গুণসম্পন্ন জাত হিসেবে ছাড়করণের সিদ্ধান্ত হয়।
ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ লিয়াজোঁ অফিসার আবদুল মোমিন বলেন, ব্রি ধান–১০৪-এ আধুনিক উফশী ধানের সব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এ জাতের ডিগ পাতা খাড়া, প্রশস্ত ও লম্বা, পাতার রং সবুজ। পূর্ণবয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ৯২ সেন্টিমিটার। জাতটির গড় জীবনকাল ১৪৭ দিন। এক হাজারটি পুষ্ট ধানের ওজন গড়ে ২১ দশমিক ৫ গ্রাম। এ জাতের ধান বাসমতি টাইপের তীব্র সুগন্ধিযুক্ত। এ ধানের দানায় অ্যামাইলোজের পরিমাণ শতকরা ২৯ দশমিক ২ ভাগ। এ ছাড়া প্রোটিনের পরিমাণ শতকরা ৮ দশমিক ৯ ভাগ এবং ভাত ঝরঝরে। এ জাতের জীবনকাল ব্রি ধান–৫০-এর প্রায় সমান। এ ধানের গুণগত মান ভালো অর্থাৎ চালের আকার–আকৃতি অতিরিক্ত লম্বা ও চিকন এবং রং সাদা। ফলন পরীক্ষায় দেশের ১০টি অঞ্চলে ব্রি ধান–৫০-এর চেয়ে ব্রি ধান–১০৪-এর ফলন প্রায় ১১ দশমিক ৩৩ ভাগ বেশি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শীর্ষ ছয় স্থানে এটি ব্রি ধান–৫০-এর চেয়ে ১৭ দশমিক ৯৪ ভাগ বেশি ফলন দিয়েছে।
জাতীয় বীজবোর্ডের অনুমোদন পেল বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত আরো তিনটি নতুন ধানের জাত।
জাতীয় বীজবোর্ডের অনুমোদন পেল বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত আরো তিনটি নতুন ধানের জাত।
ব্রি হাইব্রিড ধান-৮ বোরো মৌসুমের জাত। এ জাতের ধান গাছের উচ্চতা ১১০ থেকে ১১১ সেন্টিমিটার। প্রতি গোছায় গড় কুশির সংখ্যা ১০ থেকে ১২। দানার পুষ্টতা ৮৮ দশমিক ৬। জীবনকাল ১৪৫ থেকে ১৪৮ দিন। ফলন প্রতি হেক্টরের ১০ দশমিক ৫ থেকে ১১ মেট্রিক টন।