মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

বাগমারায় শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ

SONALISOMOY.COM
মার্চ ৩, ২০২২
news-image

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারার কোনাবাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপর হামলার প্রতিবাদে ও দোষীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবিতে শিক্ষক সংগঠন, শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে।

পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক বহিরাগত বখাটেকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া বখাটের নাম রনি হোসেন (১৮)। তিনি তালঘরিয়া গ্রামের মাহাতাব আলীর ছেলে ও স্থানীয় ভাবে বখাটে হিসাবে পরিচিত।

জানা যায়, বুধবার ২ ফেব্রয়ারি সকালে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্র ক্লাস চলাকালীন সময়ে বহিরাগতদের নিয়ে গল্প করছিল। এসময় প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে বিদ্যালয়ের দপ্তরি সাজেদুর রহমান ওই শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে যাওয়ার জন্য বলেন। এতে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও পরে হাতাহাতি হয়। এর জের ধরে ওইদিন বিকেলে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থী তার সহযোগিদের নিয়ে হামলা চালিয় শিক্ষকদের মারপিট করে। তাদের হামলায় প্রধান শিক্ষকসহ চার জন শিক্ষক এক দপ্তরি আহত হন।

এরপর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কছির উদ্দিন বাদী হয়ে আটজনকে আসামি করে বাগমারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরেই পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালায়। অভিযানে এলাকা থেকে আত্মগোপন করা অবস্থায় আসামি রনি হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সকালে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে শিক্ষকদের ওপর এই হামলার প্রতিবাদ, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে কর্মসূচি পালন করেছে উপজেলা শিক্ষক সমিতি ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিবাদ মিছিলটি বিদ্যালয় চত্ত্বর থেকে বের হয়ে তালঘরিয়া এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণের পর সড়কের পাশে একটি মানববন্ধন করে। সকাল ১১টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত একটানা এক ঘন্টার এই কর্মসূচি চলে। মানববন্ধন চলাকালে প্রধান শিক্ষক কছির উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি আসাদুল ইসলাম সান্টু, সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বাবু জোয়ার্দ্দার প্রমুখ। বক্তারা শিক্ষকদের ওপর হামলাকে ন্যাক্কারজনক উল্লেখ করে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তাঁরা বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও কর্মচারিদের নিরাপত্তা দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন।

বাগমারা থানার ওসি মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, শিক্ষকদের ওপর এই হামলা লজ্জাজনক। হামলাকারীরা কেউ রেহাই পাবে না। মামলা দায়েরের পরেই পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।