সোমবার, ১৮ জুন, ২০১৮

ইসলামী শিক্ষার আধুনিকায়নের রুপকার, আওয়ামী লীগ সরকার

SONALISOMOY.COM
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৮

সোনালী সময় ডেক্স

বর্তমান সরকারের আমলেই মাধ্যমিক পর্যন্ত ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আলেম-ওলামাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দেশে একটি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিস স্থাপন চলছে। দেশের বিভিন্ন মসজিদ ও মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ৩৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সরকারি হজ ব্যবস্থাপনায় কেবল গত বছরই ১ লাখ ২০ হাজার হাজি হজে যেতে সক্ষম হয়েছেন। শেখ হাসিনা সরকার বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কমিশন গঠন করেছে এবং কওমি আলেম-ওলামাদের ইমাম প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা নিজে জাতীয় উন্নয়নের ধারায় কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষিত আলেমদের সম্পৃক্ত করে তাদের কর্মক্ষেত্র সম্প্রসারণের জন্য সরকারি শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য পর্যায়ক্রমে কওমি মুরবি্বয়ানদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর ১০ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে সরকারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, শিক্ষাদানের বিষয় এবং কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা সনদের সরকারি স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে সুপারিশমালা প্রণয়নের জন্য বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়। অন্যদিকে কওমি আলেম-ওলামাদের মধ্যে ১ লাখ ৭১ হাজার ইমামকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। দেশের ‘ইমাম ও মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট’ শেখ হাসিনার নিজের উদ্যোগে গঠিত হয়েছে। বর্তমানে এ ফান্ডে ২৮ কোটি টাকা জমা হয়েছে। তাছাড়া বর্তমান সরকারই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় (ইসলাম) শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে। এতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আলেম-ওলামার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের বিভিন্ন প্রকল্পে বিপুল অর্থ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ইবতেদায়ী ও দাখিল স্তর পর্যস্ত সকল শিক্ষার্থীকে সরকার বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক প্রদান, সাধারণ শিক্ষা ধারার ১ম শ্রেণী থেকে ৯ম শ্রেণী ও ১০ম শ্রেণীর সাধারণ আবশ্যিক ইংরেজি, বাংলা, গণিত এবং ঐচ্ছিক বিষয়ের পাঠ্যপুস্তকসমূহ পরিমার্জন করা, মাদ্রাসার শিক্ষাক্রমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ও জীবনমুখী শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা, জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০-এর বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দাখিল ও আলিম স্তরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়টি আবশ্যিক হিসেবে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থাসমূহের মাধ্যমে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ধর্মীয় ও নৈতিকতা শিক্ষার উন্নয়নকল্পে বর্তমান সরকার পূর্ব মেয়াদে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের আওতায় ৭৬৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৯ লাখ শিশুকে প্রাক প্রাথমিক ও নৈতিকতা শিক্ষা প্রদান, ২৫ লাখ ২০ হাজার কিশোর-কিশোরীকে সহজ পদ্ধতিতে পবিত্র কুরআন শিক্ষা এবং ১ লাখ ১৫ হাজার ২শ’ নিরক্ষর বয়স্ক ব্যক্তিকে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিকতা শিক্ষা প্রদানসহ সর্বমোট ৬৫ লাখ ৩৫ হাজার ২শ’ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, হিন্দু ধর্মালম্বীদের জন্য হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের আওতায় ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৫ হাজার শিশু শিক্ষা কেন্দ্র এবং ২৫০টি বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫০ জন শিশুকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, ২৬ হাজার ২৭৫ জনকে সাক্ষরতা ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে।

ইসলাম ধর্মের জন্য শেখ হাসিনা সরকারের আরো অনেক কর্মসূচি রয়েছে। এখানে কেবল কয়েকটি সম্পর্কে উল্লেখ করা হলো। যুদ্ধাপরাধীদের ইসলামের অনুসারী বলে প্রচার করে তাদের বাঁচানোর জন্য গুজব আর মিথ্যা কথা ছড়ানোকেই মূল কাজ হিসেবে বেছে নিয়েছে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন।

‘যার যার ধর্ম তার তার’ ধর্মনিরপেক্ষতার এই ব্যাখ্যা বঙ্গবন্ধুই প্রথম উপস্থাপন করেন । বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রক্ষক বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সেই পথেই হাঁটছেন। আমাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা আর সহযোগিতাই পারে একটি শান্তিপূর্ণ ও ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ বিনির্মাণে।

এ জাতীয় আরও খবর